৬৫/২৮৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের নিঃশেষ করে দেন। (সূরা যুখরুফ ৪৩/৭৭)
মিম্বরে জাহান্নামের আয়াত পাঠ: কুরআন বুঝার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৮১৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮১৯
حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَى الْمِنْبَرِ {وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ} وَقَالَ قَتَادَةُ {مَثَلًا لِّلْاٰخِرِيْنَ} عِظَةً لِمَنْ بَعْدَهُمْ وَقَالَ غَيْرُهُ {مُقْرِنِيْنَ} ضَابِطِيْنَ يُقَالُ فُلَانٌ مُقْرِنٌ لِفُلَانٍ ضَابِطٌ لَهُ. وَالأَكْوَابُ الْأَبَارِيْقُ الَّتِيْ لَا خَرَاطِيْمَ لَهَا. وَقَالَ قَتَادَةُ {فِيْ أُمِّ الْكِتَابِ} جُمْلَةِ الْكِتَابِ أَصْلِ الْكِتَابِ. {أَوَّلُالْعَابِدِيْنَ} أَيْ مَا كَانَ فَأَنَا أَوَّلُ الآنِفِيْنَ وَهُمَا لُغَتَانِ رَجُلٌ عَابِدٌ وَعَبِدٌ وَقَرَأَ عَبْدُ اللهِ وَقَالَ الرَّسُوْلُ يَا رَبِّ وَيُقَالُ أَوَّلُ الْعَابِدِيْنَ الْجَاحِدِيْنَ مِنْ عَبِدَ يَعْبَد
ইয়া‘লা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে মিম্বরে পড়তে শুনেছিوَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ(তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের নিঃশেষ করে দেন)। কাতাদা (রহঃ) বলেন, مَثَلًا لِّلْاٰخِرِيْنَ এর অর্থ পরবর্তী লোকদের জন্য নসীহাত। কাতাদা (রহঃ) ব্যতীত অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, مُقْرِنِيْنَ নিয়ন্ত্রণকারী। বলা হয় فُلَانٌ مُقْرِنٌ لِفُلَانٍ অর্থাৎ তার নিয়ন্তা। الأَكْوَابُ অর্থ হাতল বিহীন পানপাত্র। কাতাদা (রহঃ) (রহঃ) أُمِّ الْكِتَابِ সম্পর্কে বলেন, তা হচ্ছে মূল কিতাব ও সারাংশ। أَوَّلُ الْعَابِدِيْنَ অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর কোন সন্তান নেই- এ কথা প্রত্যাখ্যানকারী সর্বপ্রথম আমি নিজেই। رَجُلٌ عَابِدٌ وَعَبِدٌ দুই ধরনের ব্যবহার রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) وَقَالَ الرَّسُوْلُ يَا رَبِّ পাঠ করতেন। কোন কোন মুফাস্সির বলেন,أَوَّلُ الْعَابِدِيْنَ -এ বর্ণিত الْعَابِدِيْنَ শব্দটি عَبِدَ يَعْبَد এর ওজনে এসেছে; যার অর্থ অস্বীকারকারী।
[৩২৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৫৫,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৫৭)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়ালা রাঃ বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে মিম্বরে একটি আয়াত পড়তে শুনেছেন, যেখানে জাহান্নামের অধিবাসীরা মালিককে ডাকবে এবং বলবে, তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের শেষ করে দেন। এরপর একই বর্ণনায় কাতাদা রহঃ ও অন্যদের কিছু কুরআনিক শব্দের অর্থ এসেছে। যেমন, পরবর্তী লোকদের জন্য নসীহাত, নিয়ন্ত্রণকারী, হাতলবিহীন পানপাত্র, মূল কিতাব ইত্যাদি অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم মিম্বরে কুরআন পাঠ করতেন এবং সালাফরা কুরআনের শব্দ বুঝতে অর্থ ব্যাখ্যা করতেন। জাহান্নামের আয়াত মানুষকে সতর্ক করে, আর শব্দের অর্থ জানা কুরআন বোঝাকে সহজ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم মিম্বরে কুরআনের আয়াত পাঠ করতেন।
- জাহান্নামের আয়াত মানুষকে সতর্ক করে।
- কুরআনের শব্দের অর্থ জানা বোঝার জন্য সহায়ক।
- সালাফরা আয়াতের শব্দ ব্যাখ্যা করে মানুষকে শিক্ষা দিতেন।
