৬৫/২৬১. অধ্যায়ঃ

পরিচ্ছেদ নাই।

আখিরাত নির্বাচন: আয়িশা রাঃ-এর দৃঢ় জবাব

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَنَّ عَائِشَةَ - رضي الله عنها، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ جَاءَهَا حِينَ أَمَرَ اللهُ أَنْ يُخَيِّرَ أَزْوَاجَهُ، فَبَدَأَ بِي رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ: إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا، فَلَا عَلَيْكِ أَنْ تَسْتَعْجِلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ، وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَيَّ لَمْ يَكُونَا يَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ، قَالَتْ: ثُمَّ قَالَ: إِنَّ اللهَ قَالَ: ﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ﴾ إِلَى تَمَامِ الْآيَتَيْنِ، فَقُلْتُ لَهُ: فَفِي أَيِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَيَّ؟ فَإِنِّي أُرِيدُ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ».

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাছে এলেন, যখন আল্লাহ তাঁর সহধর্মিণীদের দুটি পন্থার মধ্যে একটি পন্থা বেছে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সবার আগে আমার থেকে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি তোমার কাছে একটি কথা উল্লেখ করছি। তাড়াহুড়ো না করে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি এ কথা ভালভাবেই জানতেন যে, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর (ﷺ) থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ কখনও দেবেন না।আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি [রসূলুল্লাহ (ﷺ)] বললেন, আল্লাহ বলছেন, “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....। তখন আমি তাঁকে বললাম, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মা থেকে পরামর্শ নেওয়ার কী আছে? আমি তো আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং আখিরাতের জীবনই কামনা করি।

[৪৭৮৬; মুসলিম ১৮/৪, হাঃ ১৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২১,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৩)[১] খায়বারের যুদ্ধের পর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ তাদের ভরণ-পোষণে অর্থ বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। এ বিষয়ের প্রতি এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৮৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সহধর্মিণীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বেছে নেওয়ার বিষয় এসেছে। আল্লাহর নির্দেশে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদের দুনিয়ার জীবন ও তার সাজসজ্জা অথবা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। তিনি প্রথমে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে যান এবং বলেন, তাড়াহুড়া না করে পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করতে। কিন্তু আয়িশা (রাঃ) স্পষ্টভাবে বলেন, এ বিষয়ে পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শের কী আছে? তিনি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবনই চান। এই হাদিসে দাম্পত্য সম্মান, পরামর্শের সুযোগ এবং আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা আছে। তবে ব্যাখ্যা হাদিসের সীমাতেই রাখা উচিত; এখানে আয়িশা (রাঃ)-এর নিজের জবাবই মূল শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়িশা (রাঃ) আল্লাহ, রাসূল صلى الله عليه وسلم ও আখিরাতকে বেছে নিয়েছেন।
  • নবী صلى الله عليه وسلم তাড়াহুড়া না করে চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছেন।
  • দুনিয়ার সাজসজ্জা ও আখিরাতের জীবনের মাঝে বেছে নেওয়ার পরীক্ষা এসেছে।
  • সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ঈমানদার মন আল্লাহর সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দেয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন