৬৫/২৪৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী: কেয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং তথায় সে চিরকাল অপমানিত অবস্থায় থাকবে। (সূরা ফুরকান ২৫/৬৯)
তওবা, ঈমান ও সৎকর্ম: বড় গুনাহের পর ফিরে আসার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৭৬৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৬৫
سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ ابْنُ أَبْزَى سَلْ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا} وَقَوْلِهِ {وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ} حَتَّى بَلَغَ {إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ} فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ لَمَّا نَزَلَتْ قَالَ أَهْلُ مَكَّةَ فَقَدْ عَدَلْنَا بِاللهِ وَقَدْ قَتَلْنَا النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَتَيْنَا الْفَوَاحِشَ فَأَنْزَلَ اللهُ {إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا}إِلَى قَوْلِهِ {غَفُوْرًا رَّحِيْمًا}.
সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু আবযা (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহ তাআলার বাণী: “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম” এবং আল্লাহর এ বাণী: “এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত, তারা তাকে হত্যা করে না” এবং “কিন্তু যারা তওবা করে” পর্যন্ত সম্পর্কে। আমিও তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি উত্তরে বললেন, যখন এ আয়াত নাজিল হল তখন মক্কাবাসী বলল, আমরা আল্লাহর সাথে শরীক করেছি, আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করেছি এবং আমরা অশ্লীল কার্যে লিপ্ত হয়েছি। তারপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।” إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا থেকে غَفُوْرًا رَّحِيْمًا পর্যন্ত।
[৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০২,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০৪)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে দুটি আয়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। একদিকে আছে ইচ্ছাকৃত মুমিন হত্যার শাস্তির আয়াত, অন্যদিকে আছে যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে না, অন্যায় হত্যা করে না এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয় না—তাদের বর্ণনা। মক্কাবাসীরা যখন বলল, আমরা তো শিরক করেছি, নিষিদ্ধ প্রাণ হত্যা করেছি এবং অশ্লীল কাজ করেছি, তখন আল্লাহ তওবা, ঈমান ও সৎকর্মের কথা নাযিল করেন। হাদিসটি খুব ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়। গুনাহকে হালকা করা যাবে না, আবার সত্য তওবা, ঈমান ও ভালো কাজে ফিরে আসার কথাও কুরআনে এসেছে। তাই মানুষকে হতাশ না করে, গুনাহ থেকে সত্যভাবে ফিরতে বলা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক, অন্যায় হত্যা ও অশ্লীলতা বড় গুনাহ।
- তওবা শুধু মুখের কথা নয়; ঈমান ও সৎকর্মের সঙ্গে যুক্ত।
- গুনাহ থেকে ফিরে আসার বিষয়ে কুরআন মানুষকে পথ দেখায়।
