৬৫/২৪৫. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী:
মুমিন হত্যা: যে আয়াতকে কিছু রহিত করেনি
সহীহ বুখারী : ৪৭৬৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৬৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْكُوْفَةِ فِيْ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ فَرَحَلْتُ فِيْهِ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ نَزَلَتْ فِيْ آخِرِ مَا نَزَلَ وَلَمْ يَنْسَخْهَا شَيْءٌ.
সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিতঃ
মু’মিনের হত্যার ব্যাপারে কুফাবাসী মতভেদে লিপ্ত হল। আমি (এ ব্যাপারে) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, (মু’মিনের হত্যা সম্পর্কিত) এ আয়াত সর্বশেষ অবতীর্ণ হয়েছে। একে অন্য কিছু রহিত করেনি।
[৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০০,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০২)[১] শির্কের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের যে কোন গুনাহ আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছে করলে ক্ষমা করে থাকেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ হচ্ছে-শিরকের চেয়ে নিম্নমানের গুনাহর কারণে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। উল্লেখ্য যে, শিরকের চেয়েও উপরের স্তরের গুনাহ রয়েছে যেগুলো চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবার আরও শক্ত কারণ। আর সেগুলো হচ্ছে, কুফর তথা আল্লাহকে অস্বীকার করা, তাকযীব তথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, আল্লাহকে মিথ্যাবাদী বলা, তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করা ইত্যাদি কাজগুলো শিরকের চেয়েও বড় গুনাহ। (তাফসীর ইবনু উসাইমিন ও তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থ ১২নং খন্ড ১৩৫-১৩৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিন হত্যা নিয়ে কুফাবাসীদের মতভেদের কথা এসেছে। সা‘ঈদ ইবনু যুবাইর (রহঃ) বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে যান। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, মুমিন হত্যা সম্পর্কিত আয়াত সর্বশেষে অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেটিকে অন্য কোনো আয়াত রহিত করেনি। এখানে মূল বিষয় হলো, মুমিনের জীবন আল্লাহর কাছে কত সম্মানিত। ইচ্ছাকৃত হত্যা শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; এটি আখিরাতের ভয়াবহ জবাবদিহির বিষয়। হাদিসটি আরও শেখায়, বড় দ্বীনি বিষয়ে মতভেদ হলে নিজের ধারণার উপর থাকা ঠিক নয়। জ্ঞানী সাহাবীর কাছে ফিরে গিয়ে প্রমাণভিত্তিক বুঝ নেওয়া নিরাপদ পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের জীবন আল্লাহর কাছে সম্মানিত।
- হত্যার মতো বড় বিষয়ে হালকা কথা বলা ঠিক নয়।
- দ্বীনি মতভেদে জ্ঞানীদের কাছে ফিরে যাওয়া উচিত।
