৬৫/২২৫. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী: সে যেন তোমাদেরকে কিছুতেই জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে কষ্টে পতিত হবে। (সূরা ত্বহা ২০/১১৭)
আদম-মূসার কথোপকথন: তাকদীর বুঝতে সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ৪৭৩৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৩৮
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا أَيُّوْبُ بْنُ النَّجَّارِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِيْ كَثِيْرٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ حَاجَّ مُوْسَى آدَمَ فَقَالَ لَهُ أَنْتَ الَّذِيْ أَخْرَجْتَ النَّاسَ مِنَ الْجَنَّةِ بِذَنْبِكَ وَأَشْقَيْتَهُمْ قَالَ قَالَ آدَمُ يَا مُوْسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلَامِهِ أَتَلُوْمُنِيْ عَلَى أَمْرٍ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيْ أَوْ قَدَّرَهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَحَجَّ آدَمُ مُوْسَى.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মূসা (আঃ) আদম (আঃ)-এর সঙ্গে যুক্তি দিয়ে বললেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, আপনার গুনাহের কারণে মানবজাতিকে জান্নাত থেকে বের করেছেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে ফেলেছেন।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আদম (আঃ) বললেন, হে মূসা (আঃ)! আপনি তো সে ব্যক্তি, আল্লাহ আপনাকে রিসালাতের জন্য এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বেছে নিয়েছেন। তবুও কি আপনি আমাকে এমন বিষয়ের জন্য নিন্দাবাদ করবেন, যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির আগেই আমার সম্পর্কে লিখে রেখেছেন, অথবা বললেন, আমার সৃষ্টির পূর্বেই তা আমার ব্যাপারে নির্ধারণ করে রেখেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর তর্কে বিজয়ী হলেন।
[৩৪০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭৭,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭৯)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূসা (আঃ) আদম (আঃ)-কে বলেন, আপনার গুনাহের কারণে মানবজাতি জান্নাত থেকে বের হয়েছে এবং দুঃখ-কষ্টে পড়েছে। আদম (আঃ) জবাবে মূসা (আঃ)-এর মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দেন—আল্লাহ তাঁকে রিসালাত ও কালামের জন্য বেছে নিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, আপনি কি আমাকে এমন বিষয়ে নিন্দা করছেন, যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির আগেই আমার ব্যাপারে লিখে রেখেছেন বা নির্ধারণ করেছেন? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর ওপর যুক্তিতে বিজয়ী হলেন। এই হাদিস তাকদীরের সূক্ষ্ম বিষয় শেখায়। এটি মানুষকে নিজের ভুলে অজুহাত খুঁজতে শেখায় না; বরং আল্লাহর পূর্বলিখিত সিদ্ধান্ত ও নবীদের কথোপকথনের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর তাকদীর মানুষের সৃষ্টির আগেই নির্ধারিত।
- নবীদের কথোপকথন থেকেও গভীর আকীদার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- তাকদীর নিয়ে কথা বলার সময় সীমা মানা জরুরি।
- আল্লাহ যাকে রিসালাত ও কালাম দেন, তার মর্যাদা বিশেষ।
