৬৫/২২২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী: আর সে যা বলে তা থাকবে, আমার কাছে আসবে একাকী। (সূরা মারইয়াম ১৯/৮০)
গায়েবের দাবি নয়: আল্লাহর কাছে মানুষ একাই ফিরবে
সহিহ বুখারী : ৪৭৩৫
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৩৫
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ خَبَّابٍ قَالَ كُنْتُ رَجُلًا قَيْنًا وَكَانَ لِيْ عَلَى الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ دَيْنٌ فَأَتَيْتُهُ أَتَقَاضَاهُ فَقَالَ لِيْ لَا أَقْضِيْكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ قَالَ قُلْتُ لَنْ أَكْفُرَ بِهِ حَتَّى تَمُوْتَ ثُمَّ تُبْعَثَ قَالَ وَإِنِّيْ لَمَبْعُوْثٌ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ فَسَوْفَ أَقْضِيْكَ إِذَا رَجَعْتُ إِلَى مَالٍ وَوَلَدٍ قَالَ فَنَزَلَتْ {أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًاأَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمْ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُوْلُ وَنَمُدُّ لَه” مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا وَنَرِثُه” مَا يَقُوْلُ وَيَأْتِيْنَا فَرْدًا}.
খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একজন কর্মকার ছিলাম এবং আস ইবন ওয়াইলের নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি তাকে তাগিদ দিতে তার কাছে আসলাম। সে বলল, আমি পাওনা পরিশোধ করব না, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে অস্বীকার করবে। তিনি (খাব্বাব) বললেন, আমি কখনও তাঁকে অস্বীকার করব না, এমনকি তোমার মৃত্যুর পরে জীবিত হওয়া পর্যন্তও না। আস ইবনু ওয়াইল বলল, আমি মৃত্যুর পরে আবার জীবিত হব, তখন অবিলম্বে আমি সম্পদ ও সন্তানের দিকে ফিরে আসব এবং তোমাকে পরিশোধ করে দেব। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন।“তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে, অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে? কখনই না; সে যা বলে অবিলম্বে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। সে যে বিষয়ের কথা বলে তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা।”
[২০৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭৬)
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৭৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাব্বাব (রাঃ)-এর একই ঘটনার আরেকটি বিস্তৃত বর্ণনা এসেছে। আস ইবনু ওয়াইল তাঁর পাওনা দিতে অস্বীকার করে এবং শর্ত দেয়, খাব্বাব (রাঃ) যেন মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-কে অস্বীকার করেন। খাব্বাব (রাঃ) দৃঢ়ভাবে বলেন, তিনি কখনও তাঁকে অস্বীকার করবেন না। আস পুনরুত্থান নিয়ে বলে, মৃত্যুর পর সে সম্পদ ও সন্তানের কাছে ফিরে যাবে এবং তখন ঋণ শোধ করবে। তখন আয়াত নাজিল হয়, সে কি গায়েব জানে, নাকি রহমানের কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নিয়েছে? বরং তার কথা লেখা হবে, শাস্তি বাড়ানো হবে, আর সে আল্লাহর কাছে একা আসবে। হাদিসটি আখিরাত, হিসাব এবং গায়েব সম্পর্কে মনগড়া দাবির বিপদ দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গায়েব সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা মানুষের কাজ নয়।
- আল্লাহ মানুষের কথাবার্তাও লিখে রাখেন।
- আখিরাতে ধন-সন্তান নয়, মানুষ নিজের হিসাব নিয়ে একা আসবে।
- ঈমানের সামনে দুনিয়ার লোভ বা চাপ টিকে থাকা উচিত নয়।
