৬৫/২১৭. অধ্যায়ঃ

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ আপনি তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিন পরিতাপের দিন সম্পর্কে .......। (সূরা মারইয়াম ১৯/৩৯)

মৃত্যুর অবসান: জান্নাত ও জাহান্নামের চূড়ান্ত ঘোষণা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৩০

عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا أَبُوْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُؤْتَى بِالْمَوْتِ كَهَيْئَةِ كَبْشٍ أَمْلَحَ فَيُنَادِيْ مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَشْرَئِبُّوْنَ وَيَنْظُرُوْنَ فَيَقُوْلُ هَلْ تَعْرِفُوْنَ هَذَا فَيَقُوْلُوْنَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ ثُمَّ يُنَادِيْ يَا أَهْلَ النَّارِ فَيَشْرَئِبُّوْنَ وَيَنْظُرُوْنَ فَيَقُوْلُ هَلْ تَعْرِفُوْنَ هَذَا فَيَقُوْلُوْنَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ فَيُذْبَحُ ثُمَّ يَقُوْلُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُوْدٌ فَلَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُوْدٌ فَلَا مَوْتَ ثُمَّ قَرَأَ {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِيْ غَفْلَةٍ} وَهَؤُلَاءِ فِيْ غَفْلَةٍ أَهْلُ الدُّنْيَا {وَهُمْ لَا يُؤْمِنُوْنَ}.

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কেয়ামতের দিবসে মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তারা ঘাড়-মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চেন? তারা বলবেন হ্যাঁ, এ হল মৃত্যু। কেননা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে, তখন সম্বোধনকারী বলবে তোমরা কি একে চেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা তারা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটিকে) যবহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন (এখানে) থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করলেনঃ ’’তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে, যখন সকল ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসী-অবিশ্বাসী।”

[মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৯, আহমাদ ১১০৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৯,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭১)[১] আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ اَيُّهُمْ اَشَدُّ عَلَى الرَّحْمنِ عِتِيًا যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য। (সূরাহ নাহল ১৬/৬৯)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৩০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আখিরাতের এক ভয়াবহ ও গভীর দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের দিনে মৃত্যুকে ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসী উভয়কে জিজ্ঞেস করা হবে, তারা একে চেনে কি না। সবাই বলবে, হ্যাঁ, এ মৃত্যু। এরপর মৃত্যুকে যবহ করা হবে। তারপর ঘোষণা হবে, হে জান্নাতবাসী, এখানে স্থায়ীভাবে থাকো, আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসী, স্থায়ীভাবে থাকো, আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পরিতাপের দিনের আয়াত পাঠ করেন। এই হাদিস মানুষকে দুনিয়ার গাফিলতি থেকে জাগায়। আখিরাতের সিদ্ধান্ত একবার হয়ে গেলে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিয়ামতের পর জান্নাত ও জাহান্নামের পরিণতি স্থায়ী হবে।
  • দুনিয়ার গাফিলতি মানুষকে পরিতাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
  • মৃত্যু শেষ নয়; বরং আখিরাতের হিসাবের দিকে যাত্রা।
  • পরিণতি ঘোষণার আগে ঈমান ও আমল নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন