৬৫/১৬১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهٰ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللهَ مَعَنَا}
ইবনু যুবাইর (রাঃ) সম্পর্কে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মন্তব্য
সহিহ বুখারী : ৪৬৬৬
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৬৬
مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مَيْمُوْنٍ حَدَّثَنَا عِيْسَى بْنُ يُوْنُسَ عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيْدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ دَخَلْنَا عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ أَلَا تَعْجَبُوْنَ لِابْنِ الزُّبَيْرِ قَامَ فِيْ أَمْرِهِ هَذَا فَقُلْتُ لَأُحَاسِبَنَّ نَفْسِيْ لَهُ مَا حَاسَبْتُهَا لِأَبِيْ بَكْرٍ وَلَا لِعُمَرَ وَلَهُمَا كَانَا أَوْلَى بِكُلِّ خَيْرٍ مِنْهُ وَقُلْتُ ابْنُ عَمَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَابْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ أَبِيْ بَكْرٍ وَابْنُ أَخِيْ خَدِيْجَةَ وَابْنُ أُخْتِ عَائِشَةَ فَإِذَا هُوَ يَتَعَلَّى عَنِّيْ وَلَا يُرِيْدُ ذَلِكَ فَقُلْتُ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنِّيْ أَعْرِضُ هَذَا مِنْ نَفْسِيْ فَيَدَعُهُ وَمَا أُرَاهُ يُرِيْدُ خَيْرًا وَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ لَأَنْ يَرُبَّنِيْ بَنُوْ عَمِّيْ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَرُبَّنِيْ غَيْرُهُمْ.
ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি ইবনু যুবাইরের বিষয়ে বিস্মিত হবে না? তিনি তো তার এ কাজে (খিলাফতের কাজে) দাঁড়িয়েছেন। [ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন] আমি বললাম, আমি অবশ্য মনে মনে তাঁর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করি, কিন্তু আবু বকর (রাঃ) কিংবা উমর (রাঃ)-এর ব্যাপারে এতটুকু চিন্তা-ভাবনা করিনি। সব দিক থেকে তাঁর চেয়ে তাঁরা উভয়ে উত্তম ছিলেন।আমি বললাম, তিনি নবী (ﷺ)-এর ফুফু সফিয়্যা (রাঃ)-এর সন্তান, যুবাইরের ছেলে, আবু বকর (রাঃ)-এর নাতি, খাদিজা (রাঃ)-এর ভাতিজা, আয়িশা (রাঃ)-এর বোন আসমার ছেলে। কিন্তু তিনি (নিজেকে বড় মনে করে) আমার থেকে দূরে সরে থাকেন এবং তিনি আমার সহযোগিতা কামনা করেন না। আমি বললাম, আমি নিজে থেকে এজন্য তা প্রকাশ করি না যে, হয়ত তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং আমি মনে করি না যে, তিনি এটা ভাল করছেন। কারণ অন্য কোন ব্যক্তি দেশের শাসক হওয়ার চেয়ে আমার চাচার ছেলে অর্থাৎ আমার আপনজন শাসক হওয়া আমার নিকট উত্তম।
[৪৬৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৬)
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৬৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইবনু যুবাইর (রাঃ) সম্পর্কে নিজের অনুভব ও মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইবনু যুবাইর তাঁর কাজে দাঁড়িয়েছেন, আর তিনি তাঁর ব্যাপারে মনে মনে হিসাব করেছেন; যদিও আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর ব্যাপারে এমন ভাবেননি, কারণ তাঁরা সব দিক থেকে উত্তম ছিলেন। তিনি ইবনু যুবাইরের পারিবারিক সম্পর্কও বলেন—নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ফুফু সাফিয়্যার সন্তান, যুবাইরের ছেলে, আবু বকরের নাতি, খাদিজার ভাতিজা এবং আয়েশার বোন আসমার ছেলে। এরপর তিনি বলেন, ইবনু যুবাইর নিজেকে বড় মনে করে দূরে থাকেন। হাদিসের শিক্ষা হলো, নেতৃত্ব, আত্মীয়তা ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে কথা বলার সময় বাস্তব কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সীমা ছাড়ানো হয়নি। তাই বিষয়টি বোঝার সময় বর্ণনার শব্দের মধ্যেই থাকা নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবনু আব্বাস (রাঃ) আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর উচ্চ মর্যাদা স্বীকার করেছেন।
- ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর সম্মানিত পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
- আত্মীয়তা থাকলেও আচরণ ও অবস্থান নিয়ে ন্যায্য মন্তব্য করা যায়।
