৬৫/১৫০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা শেষ হয়ে যায় এবং দ্বীন সামগ্রিকভাবে আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তবে যদি তারা বিরত হয়, তাহলে তারা যা করে আল্লাহ তা উত্তমরূপে দেখেন। (সূরা আনফাল ৮/৩৯)
ফিতনা ও যুদ্ধ: ইবনু উমর (রাঃ)-এর সতর্ক অবস্থান
সহীহ বুখারী : ৪৬৫০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬৫০
الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا حَيْوَةُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ بُكَيْرٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا جَاءَهُ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا تَسْمَعُ مَا ذَكَرَ اللهُ فِيْ كِتَابِهِ {وَإِنْ طَآئِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا} إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ لَا تُقَاتِلَ كَمَا ذَكَرَ اللهُ فِيْ كِتَابِهِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِيْ أَغْتَرُّ بِهَذِهِ الْآيَةِ وَلَا أُقَاتِلُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَغْتَرَّ بِهَذِهِ الْآيَةِ الَّتِيْ يَقُوْلُ اللهُ تَعَالَى {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا} إِلَى آخِرِهَا قَالَ فَإِنَّ اللهَ يَقُوْلُ{وَقَاتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ} قَالَ ابْنُ عُمَرَ قَدْ فَعَلْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كَانَ الإِسْلَامُ قَلِيْلًا فَكَانَ الرَّجُلُ يُفْتَنُ فِيْ دِيْنِهِ إِمَّا يَقْتُلُوْنَهُ وَإِمَّا يُوْثِقُوْنَهُ حَتَّى كَثُرَ الإِسْلَامُ فَلَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فَلَمَّا رَأَى أَنَّهُ لَا يُوَافِقُهُ فِيْمَا يُرِيْدُ قَالَ فَمَا قَوْلُكَ فِيْ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ مَا قَوْلِيْ فِيْ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ أَمَّا عُثْمَانُ فَكَانَ اللهُ قَدْ عَفَا عَنْهُ فَكَرِهْتُمْ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُ وَأَمَّا عَلِيٌّ فَابْنُ عَمِّ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَخَتَنُهُ وَأَشَارَ بِيَدِهِ وَهَذِهِ ابْنَتُهُ أَوْ بِنْتُهُ حَيْثُ تَرَوْنَ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, "হে আবু আবদুর রহমান! আল্লাহ তার কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন আপনি কি তা শোনেন না?وَإِنْ طَآئِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا.....(মুমিনদের দুই দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে) সুতরাং আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী যুদ্ধ করতে কোন্ বস্তু আপনাকে নিষেধ করছে?"তিনি বললেন, "হে ভাতিজা! এই আয়াতের তাবিল বা ব্যাখ্যা করে যুদ্ধ না করা আমার কাছে অধিক প্রিয় ........وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًاস্বেচ্ছায় মুমিন খুন করে) আয়াত তাবিল করার তুলনায়। সে ব্যক্তি বলল, "আল্লাহ বলেছেন,وَقَاتِلُوهُمْ وَقَاتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ''তোমরা ফিতনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করবে)", ইবন উমর (রাঃ) বললেন, "রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমরা তা করেছি যখন ইসলাম দুর্বল ছিল। ফলে লোক তার দ্বীন নিয়ে ফিতনায় পড়ত, হয়তো কাফিররা তাকে হত্যা করত নতুবা বেঁধে রাখত, ক্রমে ক্রমে ইসলামের প্রসার ঘটল এবং ফিতনা থাকল না।"লোকটি যখন দেখল যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তার উদ্দেশ্যের অনুকূল নন তখন সে বলল যে, আলী (রাঃ) এবং উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ইবন উমর (রাঃ) বললেন, আলী (রাঃ) এবং উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আমার কোনো কথা নেই, তবে উসমান (রাঃ)-কে আল্লাহ নিজেই ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু তোমরা তাঁকে ক্ষমা করতে রাজি নও। আর আলী (রাঃ), তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচাত ভাই এবং জামাতা, তিনি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, ঐ উনি হচ্ছেন রাসূলের কন্যা, যেথায় তোমরা তাঁর ঘর দেখছ, هذِهِ ابْنَتُهُ বলেছেন কিংবা هذِهِ بْنَتُهُ বলেছেন।
[৩১৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৮৯,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৯১)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-কে মুমিনদের দুই দলের যুদ্ধ সম্পর্কিত আয়াতের কথা বলে যুদ্ধের দিকে ডাকতে চায়। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, এই আয়াতের ব্যাখ্যা করে যুদ্ধ না করা তাঁর কাছে বেশি প্রিয়, তুলনায় সেই আয়াতের ঝুঁকির চেয়ে যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিন হত্যার কথা এসেছে। লোকটি ফিতনা দূর হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের আয়াত তুলে ধরলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে তা করা হয়েছিল, যখন ইসলাম কম ছিল এবং মানুষ দ্বীনের কারণে হত্যা বা বন্দিত্বের ভয় পেত। পরে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই ফিতনা থাকে না। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আয়াত ব্যবহার করে নিজের উদ্দেশ্য চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়; মুমিনের রক্তের বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের রক্তের বিষয়ে ইবনু উমর (রাঃ) খুব সতর্ক ছিলেন।
- আয়াতকে নিজের উদ্দেশ্যের পক্ষে ব্যবহার করা থেকে সাবধান থাকা দরকার।
- ফিতনার অর্থ ও সময় বুঝে কথা বলা জরুরি।
- আলী (রাঃ) ও উসমান (রাঃ)-এর বিষয়ে তিনি সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
