৬৫/১১৫. অধ্যায়ঃ
তাফসীর
দ্বীন পূর্ণতার আয়াত: আরাফার দিনের স্মরণীয় শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৬০৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬০৬
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَتْ الْيَهُوْدُ لِعُمَرَ إِنَّكُمْ تَقْرَءُوْنَ آيَةً لَوْ نَزَلَتْ فِيْنَا لَاتَّخَذْنَاهَا عِيْدًا فَقَالَ عُمَرُ إِنِّيْ لَأَعْلَمُ حَيْثُ أُنْزِلَتْ وَأَيْنَ أُنْزِلَتْ وَأَيْنَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ أُنْزِلَتْ يَوْمَ عَرَفَةَ وَإِنَّا وَاللهِ بِعَرَفَةَ قَالَ سُفْيَانُ وَأَشُكُّ كَانَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَمْ لَا {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ}.
ত্বরিক ইবনু শিহাব হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহুদিগণ উমর (রাঃ)-কে বলল যে, আপনারা এমন একটি আয়াত পড়েন, যা যদি আমাদের মধ্যে নাযিল হত, তবে আমরা সেটাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। উমর (রাঃ) বললেন, আমি জানি এটা কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে এবং নাযিলের সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় ছিলেন। আয়াতটি আরাফার দিনে নাযিল হয়েছিল। আল্লাহর শপথ! আমরা সবাই আরাফাতে ছিলাম। সেই আয়াতটি হল-الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। সুফিয়ান সাওরী বলেন, এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে।
[৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৫,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৮)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো দ্বীন পূর্ণতা। ইয়াহুদিরা উমর (রাঃ)-কে বলেছিল, এমন একটি আয়াত তোমরা পড়ো যা আমাদের মধ্যে নাযিল হলে আমরা সেটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। উমর (রাঃ) উত্তর দেন, তিনি জানেন আয়াতটি কখন ও কোথায় নাযিল হয়েছে, আর তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কোথায় ছিলেন। আয়াতটি আরাফার দিনে নাযিল হয়েছিল, যখন তারা আরাফাতে ছিলেন। আয়াতটি হলো, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম।” এই হাদিস আমাদের কুরআনের আয়াতের মর্যাদা, আরাফার দিনের গুরুত্ব এবং দ্বীনের পূর্ণতার কথা মনে করায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর নিয়ামতকে জানা ও কৃতজ্ঞ মনে গ্রহণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীন পূর্ণ হওয়া আল্লাহর বড় নিয়ামত।
- সাহাবীগণ আয়াত নাযিলের সময় ও স্থান মনে রাখতেন।
- আরাফার দিন এই আয়াত নাযিল হওয়ার কথা বর্ণনায় এসেছে।
- আল্লাহর পূর্ণ করা দ্বীনকে সম্মান ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করা দরকার।
