৬৫/৫৬. অধ্যায়ঃ
‘‘এবং আল্লাহর উদ্দেশে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে।’’ (সূরা আল-বাকারাহ ২/২৩৮)
সালাতে নীরবতা: নামাজের আদব ও মনোযোগের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৫৩৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫৩৪
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ أَبِيْ خَالِدٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ عَنْ أَبِيْ عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلَاةِ يُكَلِّمُ أَحَدُنَا أَخَاهُ فِيْ حَاجَتِهِ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوٰتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطٰى وَقُوْمُوْا لِلهِ قَانِتِيْنَ} فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوْتِ
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা সালাতের মধ্যে কথাবার্তা বলতাম আর আমাদের কেউ অন্য ভাইয়ের প্রয়োজন নিয়ে কথা বলতেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়: حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُوْمُوْا لِلهِ قَانِتِيْنَ তখন আমাদেরকে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
[১২০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৭৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১৭৫)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যায়দ ইবনু আরকাম রাঃ বলেন, তারা আগে সালাতের মধ্যে কথা বলতেন। কেউ নিজের ভাইয়ের প্রয়োজন নিয়ে কথাও বলতেন। এরপর আয়াত নাযিল হলো—তোমরা সালাতসমূহের হিফাজত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাত, এবং আল্লাহর জন্য নত হয়ে দাঁড়াও। তখন তাদেরকে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সালাত এমন ইবাদত যেখানে মন, মুখ ও শরীর আল্লাহর সামনে নিবেদিত থাকে। নামাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা বন্ধ করা হয়েছে, যাতে সালাতের মনোযোগ ও শৃঙ্খলা রক্ষা হয়। মুসলিমের জন্য নামাজে নীরবতা, একাগ্রতা ও আল্লাহর সামনে বিনয় জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের মধ্যে কথা বলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- নামাজে নীরবতা ও মনোযোগ রাখা দরকার।
- আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় বিনয় ও শৃঙ্খলা জরুরি।
- কুরআনের আয়াত সাহাবীদের আমলকে সংশোধন করেছে।
