৬৫/৪৪. অধ্যায়ঃ

“তারপর তোমরা দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস যেখান থেকে সবাই ফিরে।” (সূরা আল-বাকারাহ ২/১৯৯)

তামাত্তু হজ্জের নিয়ম: আরাফা, মুযদালিফা ও যিকিরের শিক্ষা

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫২১

مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ أَخْبَرَنِيْ كُرَيْبٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ يَطَّوَّفُ الرَّجُلُ بِالْبَيْتِ مَا كَانَ حَلَالًا حَتَّى يُهِلَّ بِالْحَجِّ فَإِذَا رَكِبَ إِلَى عَرَفَةَ فَمَنْ تَيَسَّرَ لَهُ هَدِيَّةٌ مِنَ الإِبِلِ أَوِ الْبَقَرِ أَوِ الْغَنَمِ مَا تَيَسَّرَ لَهُ مِنْ ذَلِكَ أَيَّ ذَلِكَ شَاءَ غَيْرَ أَنَّهُ إِنْ لَمْ يَتَيَسَّرْ لَهُ فَعَلَيْهِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَذَلِكَ قَبْلَ يَوْمِ عَرَفَةَ فَإِنْ كَانَ آخِرُ يَوْمٍ مِنَ الْأَيَّامِ الثَلَاثَةِ يَوْمَ عَرَفَةَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيَنْطَلِقْ حَتَّى يَقِفَ بِعَرَفَاتٍ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ يَكُوْنَ الظَّلَامُ ثُمَّ لِيَدْفَعُوْا مِنْ عَرَفَاتٍ إِذَا أَفَاضُوْا مِنْهَا حَتَّى يَبْلُغُوْا جَمْعًا الَّذِيْ يَبِيْتُوْنَ بِهِ ثُمَّ لِيَذْكُرُوا اللهَ كَثِيْرًا وَأَكْثِرُوا التَّكْبِيْرَ وَالتَّهْلِيْلَ قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوْا ثُمَّ أَفِيْضُوْا فَإِنَّ النَّاسَ كَانُوْا يُفِيْضُوْنَ وَقَالَ اللهُ تَعَالَى {ثُمَّ أَفِيْضُوْا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللهَ إِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ} حَتَّى تَرْمُوا الْجَمْرَةَ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তামাত্তু আদায়কারী উমরাহ আদায়ের পর যতদিন হালাল অবস্থায় থাকবে, ততদিন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে। তারপর হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে। এরপর যখন আরাফাতে যাবে, তখন উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি যা মুহরিমের জন্য সহজলভ্য হয়, তা মীনাতে কুরবানি করবে। আর যে কুরবানির সঙ্গতি রাখে না, সে হজ্জের দিনসমূহের মধ্যে তিনদিন সাওম পালন করবে। আর তা আরাফার দিনের আগে হতে হবে। আর তিন দিনের শেষ দিন যদি আরাফার দিন হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। তারপর আরাফাত ময়দানে যাবে এবং সেখানে আসরের সালাত হতে সূর্যাস্তের অন্ধকার পর্যন্ত ওকুফ (অবস্থান) করবে। এরপর আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালাফায় পৌঁছে সেখানে পুণ্য অর্জনের কাজ করতে থাকবে আর সেখানে আল্লাহকে অধিক অথবা (রাবীর সন্দেহ) সবচেয়ে অধিক স্মরণ করবে। সেখানে ফজর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবির ও তাহলীল পাঠ করবে। এরপর (মীনার দিকে) প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে অন্যান্য লোক প্রত্যাবর্তন করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এরপর প্রত্যাবর্তন কর সেখান হতে, যেখান হতে লোকজন প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল, দয়াময়।” তারপর জামরায় প্রস্তর নিক্ষেপ করবে।

(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৬৩,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১৬৪)

সহিহ বুখারী হাদিস ৪৫২১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে তামাত্তু হজ্জের কয়েকটি ধাপ সহজভাবে এসেছে। উমরাহ করার পর হাজী যতদিন হালাল অবস্থায় থাকে, ততদিন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারে। এরপর হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে। আরাফাতে যাওয়ার সময় যার সামর্থ্য আছে, সে উট, গরু বা ছাগল থেকে সহজলভ্য কুরবানি করবে। আর যার কুরবানির সামর্থ্য নেই, সে হজ্জের দিনগুলোর মধ্যে তিন দিন সাওম রাখবে; শেষ দিন আরাফার দিন হলেও তাতে দোষ নেই। তারপর আরাফায় আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান, মুযদালিফায় যাওয়া, বেশি বেশি আল্লাহর যিকির, তাকবির ও তাহলীল পাঠ করার কথা এসেছে। এই হাদিসে হজ্জের আমলগুলো ধারাবাহিকভাবে শেখানো হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তামাত্তু হজ্জে উমরাহ ও হজ্জের মাঝে হালাল অবস্থায় থাকা বর্ণিত হয়েছে।
  • কুরবানির সামর্থ্য না থাকলে হজ্জের দিনগুলোতে তিন দিন সাওমের কথা এসেছে।
  • আরাফাতে আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
  • মুযদালিফায় আল্লাহর যিকির, তাকবির ও তাহলীলের গুরুত্ব বোঝা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন