৬৫/২৬. অধ্যায়ঃ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যাপারে কিসাসের বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রহমত। এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আল-বাকারাহ ২/১৭৮)
কিসাস ও দিয়াত: ক্ষমা, ন্যায় ও সীমা রক্ষার হাদিস
সহিহ বুখারী : ৪৪৯৮
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৯৮
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرٌو قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ كَانَ فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ الْقِصَاصُ وَلَمْ تَكُنْ فِيْهِمْ الدِّيَةُ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى لِهَذِهِ الْأُمَّةِ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلٰى ط اَلْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثٰى بِالْأُنْثٰى ط فَمَنْ عُفِيَ لَه”مِنْ أَخِيْهِ شَيْءٌ} فَالْعَفْوُ أَنْ يَقْبَلَ الدِّيَةَ فِي الْعَمْدِ. {فَاتِّبَاعٌم بِالْمَعْرُوْفِ وَأَدَآءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ} يَتَّبِعُ بِالْمَعْرُوْفِ وَيُؤَدِّيْ بِإِحْسَانٍ {ذٰلِكَ تَخْفِيْفٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَرَحْمَة} مِمَّا كُتِبَ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ {فَمَنِ اعْتَدٰى بَعْدَ ذٰلِكَ فَلَه”عَذَابٌ أَلِيْمٌ} قَتَلَ بَعْدَ قَبُوْلِ الدِّيَةِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বনী ইসরাইল সম্প্রদায়ের কিসাস প্রথা চালু ছিল কিন্তু দিয়াত তাদের মধ্যে চালু ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেন: হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস বা খুনের বদলে খুন তোমাদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। স্বাধীন মানুষের বদলে স্বাধীন মানুষ, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং স্ত্রীলোকের বদলে স্ত্রীলোকের কিসাস নেয়া হবে। হ্যাঁ, কোন হত্যাকারীর সঙ্গে তার কোন (মুসলিম) ভাই নম্রতা দেখাতে চাইলে।” উল্লিখিত আয়াতে আলআফুব فَالْعَفْوُ -এর অর্থ ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে দিয়াত গ্রহণ করতঃ কিসাস ক্ষমা করে দেয়া। فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ অর্থাৎ এ ব্যাপারে যথাযথ বিধি মেনে চলবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দিয়াত আদায় করে দেবে। তোমাদের পূর্বের লোকেদের উপরে আরোপিত কিসাস হতে তোমাদের প্রতি দিয়াত ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি শাস্তি হ্রাস ও বিশেষ অনুগ্রহ। দিয়াত কবূল করার পরও যদি হত্যা করে তাহলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
[৬৮৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪০,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১৪৩)
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৪৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) কিসাস ও দিয়াত সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, বনী ইসরাইলের মধ্যে কিসাস ছিল, কিন্তু দিয়াত ছিল না। আল্লাহ এই উম্মতের জন্য কিসাসের বিধান নাযিল করেন এবং সঙ্গে দিয়াতের সুযোগ দেন। আয়াতে ‘ক্ষমা’ বলতে ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে দিয়াত গ্রহণ করে কিসাস ক্ষমা করাকে বোঝানো হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, দাবি করার ক্ষেত্রে ভালো নিয়ম মেনে চলবে এবং দিয়াত আদায়কারীও সুন্দরভাবে আদায় করবে। এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ভার লাঘব ও রহমত বলা হয়েছে। তবে দিয়াত গ্রহণের পরও যদি কেউ হত্যা করে, তার জন্য কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। এই হাদিসে ন্যায়বিচার, ক্ষমার সুযোগ এবং সীমা লঙ্ঘন না করার শিক্ষা একসঙ্গে পাওয়া যায়। এটি আবেগের বদলে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করার কথা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস আল্লাহর ন্যায়ের বিধানের অংশ।
- দিয়াত গ্রহণ করে ক্ষমা করার সুযোগ এই উম্মতের জন্য সহজতা।
- দাবি ও আদায়—দুই দিকেই ভালো আচরণ রাখা দরকার।
- দিয়াত গ্রহণের পর সীমা লঙ্ঘন করা কঠিন শাস্তির কারণ।
