৬৫/২৪. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সাফা-মারওয়া নিয়ে সাহাবীদের দ্বিধা ও কুরআনের নির্দেশ
সহিহ বুখারী : ৪৪৯৬
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৯৬
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَالَ كُنَّا نَرَى أَنَّهُمَا مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا كَانَ الإِسْلَامُ أَمْسَكْنَا عَنْهُمَا فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا}.
‘আসিম ইবনু সুলাইমান (রহ.) হতে বর্ণিতঃ
আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দুটিকে জাহিলিয়া যুগের কাজ বলে মনে করতাম। যখন ইসলাম আসল, তখন আমরা এ দুটির মধ্যে সাঈ করা থেকে বিরত থাকি। তখন আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ থেকে أَنْ يَطَّوَّفَ পর্যন্ত।
[১৬৪৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৮,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১৪১)
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৪৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সাহাবীদের আগের ধারণার কথা বলেন। তাঁরা মনে করতেন, সাফা ও মারওয়ার সঙ্গে জাহিলিয়া যুগের কাজের সম্পর্ক আছে। ইসলাম আসার পর তাঁরা এ দুটির মধ্যে সাঈ করা থেকে বিরত থাকেন। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন যে সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিসে দেখা যায়, সাহাবীরা সন্দেহজনক মনে হওয়া কাজ থেকে বিরত থেকেছেন, তারপর ওহীর নির্দেশ পেয়ে সঠিক অবস্থান জেনেছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতের বিষয় ব্যক্তিগত ধারণার উপর দাঁড়ায় না; আল্লাহর নির্দেশ তা পরিষ্কার করে। সাফা-মারওয়া সাঈ তাই জাহিলিয়া নয়, বরং আল্লাহর নিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত একটি আমল হিসেবে স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা সন্দেহ হলে কাজ থেকে বিরত থেকে নির্দেশের অপেক্ষা করতেন।
- সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
- ইবাদতের সঠিক বুঝ কুরআনের নির্দেশে পরিষ্কার হয়।
- জাহিলিয়া-সম্পর্কিত ভুল ধারণা ইসলাম দূর করেছে।
