৬৫/১১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের জায়গারূপে গ্রহণ কর। (সূরা আল-বাকারাহ ২/১২৫)
উমর (রাঃ)-এর তিন মত: মাকামে ইব্রাহিম, পর্দা ও ওহীর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৪৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৮৩
مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ اللهَ فِيْ ثَلَاثٍ أَوْ وَافَقَنِيْ رَبِّيْ فِيْ ثَلَاثٍ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ اتَّخَذْتَ مَقَامَ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ بِالْحِجَابِ فَأَنْزَلَ اللهُ آيَةَ الْحِجَابِ قَالَ وَبَلَغَنِيْ مُعَاتَبَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْضَ نِسَائِهِ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِنَّ قُلْتُ إِنْ انْتَهَيْتُنَّ أَوْ لَيُبَدِّلَنَّ اللهُ رَسُوْلَهُ صلى الله عليه وسلم خَيْرًا مِنْكُنَّ حَتَّى أَتَيْتُ إِحْدَى نِسَائِهِ قَالَتْ يَا عُمَرُ أَمَا فِيْ رَسُوْلِ اللهِ مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ حَتَّى تَعِظَهُنَّ أَنْتَ فَأَنْزَلَ اللهُ : {عَسٰى رَبُّه” إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبَدِّلَه” أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ}وَقَالَ ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوْبَ حَدَّثَنِيْ حُمَيْدٌ سَمِعْتُ أَنَسًا عَنْ عُمَرَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহর ওহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকূলে আল্লাহ ওহী অবতীর্ণ করেছেন। তা হল, আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! যদি আপনি মাকামে ইব্রাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন- তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের জায়গারূপে গ্রহণ কর (সূরা আল-বাকারা ২/১২৫)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারের লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে পর্দা করার আদেশ করতেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করেন। তিনি আরও বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী (ﷺ) তাঁর কতক স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন আমি তাদের কাছে উপস্থিত হই এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত থাকুন, নচেৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রসূল (ﷺ)-কে আপনাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এরপর আমি তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে উমর! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারেও নাক গলাতে শুরু করেছ? তিনি (ﷺ) স্ত্রীগণকে নাসীহত করে থাকেন আর এখন তুমি তাদের নাসীহত করতে আরম্ভ করেছ? তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন :عَسٰى رَبُّه إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبَدِّلَه أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ ’’যদি নবী তোমাদের সবাইকে তালাক দেন, তবে তাঁর রব অচিরেই তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী তাঁকে দিবেন, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, অনুগত, তাওবাকারিণী, ইবাদতকারিণী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী’’ (সূরা আত্-তাহরীম ৬৬/৫)। ইবনু আবী মারিয়াম (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন।
[৪০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৫,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৮)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ) জানান যে তিনটি বিষয়ে তাঁর মতের অনুকূলে ওহী নাযিল হয়েছে। প্রথমটি মাকামে ইব্রাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব। পরে এ বিষয়ে আয়াত নাযিল হয়। দ্বিতীয়টি ছিল, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ঘরে নানা ধরনের মানুষ আসত, তাই উম্মাহাতুল মুমিনীনদের পর্দার নির্দেশ নিয়ে তাঁর মত। এরপর পর্দার আয়াত নাযিল হয়। তৃতীয় ঘটনা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর স্ত্রীদের বিষয়ে। উমর (রাঃ) তাঁদেরকে সতর্ক করেছিলেন যে, বিরত না হলে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দিতে পারেন। পরে এ অর্থের আয়াত নাযিল হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, উমর (রাঃ)-এর চিন্তা ওহীর সঙ্গে মিলে গিয়েছিল; তবে আইন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হয়েছে আল্লাহর নাযিল করা আয়াতের মাধ্যমে। হাদিসটি পরামর্শ, আদব এবং ওহীর মর্যাদা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীদের মধ্যে উমর (রাঃ)-এর গভীর বুঝ ও দূরদৃষ্টি ছিল।
- মাকামে ইব্রাহিমকে সালাতের স্থান করা কুরআনের আয়াতে এসেছে।
- নবী-পরিবারের পর্দা বিষয়ে ওহীর নির্দেশ নাযিল হয়েছে।
- ধর্মীয় বিধানের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ওহী।
