৬৫/৯. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে। (সূরা আল-বাকারাহ ২/১০৬)
কুরআনের নাসখ: উমর (রাঃ)-এর বক্তব্য থেকে সহজ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৪৮১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৮১
عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيْبٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَقْرَؤُنَا أُبَيٌّ وَأَقْضَانَا عَلِيٌّ وَإِنَّا لَنَدَعُ مِنْ قَوْلِ أُبَيٍّ وَذَاكَ أَنَّ أُبَيًّا يَقُوْلُ لَا أَدَعُ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى {مَا نَنْسَخْ مِنْ اٰيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا}
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্বারী, আর আলি (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ)-এর কিছু কথা বাদ দেই। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছি তার কিছুই ছাড়ব না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা ভুলিয়ে দেই" (সূরা আল-বাকারা ২/১০৬)।
[৫০০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১২৩,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪১২৬)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ) উবাই (রাঃ) ও আলি (রাঃ)-এর মর্যাদা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, উবাই (রাঃ) তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী, আর আলি (রাঃ) শ্রেষ্ঠ বিচারক। এরপর তিনি বলেন, তাঁরা উবাই (রাঃ)-এর কিছু কথা বাদ দেন। কারণ উবাই (রাঃ) বলতেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) থেকে যা শুনেছেন তা ছাড়বেন না। কিন্তু উমর (রাঃ) আল্লাহর আয়াত উল্লেখ করেন: আল্লাহ যে আয়াত রহিত করেন অথবা ভুলিয়ে দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কুরআনের আয়াতের ক্ষেত্রে নাসখ বা রহিত হওয়া একটি ওহী-সম্পর্কিত বিষয়। সাহাবীগণ কারও মর্যাদা অস্বীকার করেননি, বরং আল্লাহর বক্তব্যকে মূল মানদণ্ড করেছেন। তাই কুরআন বোঝার সময় শুধু শোনা তথ্য নয়, ওহীর পূর্ণ নির্দেশনাও দেখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যোগ্য ব্যক্তির মর্যাদা স্বীকার করেও কুরআনের নির্দেশকে প্রাধান্য দিতে হয়।
- কুরআনের নাসখ বিষয়টি সাহাবীদের আলোচনায় ছিল।
- ধর্মীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে ওহীর নির্দেশ বড়।
- জ্ঞানীদের মত বোঝার সময় আল্লাহর বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার।
