৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴿إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴾.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
আবু বকর রাঃ-এর ইমামত: আয়িশা রাঃ-এর আপত্তির আসল কারণ
সহীহ বুখারী : ৪৪৪৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৪৫
أَخْبَرَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ لَقَدْ رَاجَعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ ذَلِكَ وَمَا حَمَلَنِيْ عَلَى كَثْرَةِ مُرَاجَعَتِهِ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَقَعْ فِيْ قَلْبِيْ أَنْ يُحِبَّ النَّاسُ بَعْدَهُ رَجُلًا قَامَ مَقَامَهُ أَبَدًا وَلَا كُنْتُ أُرَى أَنَّهُ لَنْ يَقُوْمَ أَحَدٌ مَقَامَهُ إِلَّا تَشَاءَمَ النَّاسُ بِهِ فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْدِلَ ذَلِكَ رَسُوْلُ اللهِ عَنْ أَبِيْ بَكْرٍ رَوَاهُ ابْنُ عُمَرَ وَأَبُوْ مُوْسَى وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
উবাইদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামতের ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর নিকট বারবার আপত্তি করেছি। আর আমার তাঁর কাছে বারবার আপত্তি করার কারণ ছিল এই, আমার অন্তরে এ কথা আসেনি যে, নবী (ﷺ)-এর পরে তাঁর স্থলে কেউ দাঁড়ালে লোকেরা তাকে পছন্দ করবে। বরং আমি মনে করতাম যে, কেউ তাঁর স্থলে দাঁড়ালে লোকেরা তাঁর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করবে, তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, নবী (ﷺ) এ দায়িত্ব আবু বকর (রাঃ)-এর পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রদান করুন। আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ইবন উমর, আবু মূসা ও ইবন আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
[১৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯২,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৫)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামতের ব্যাপারে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বারবার আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আপত্তির কারণ ছিল না যে, তিনি আবু বকর (রাঃ)-কে অপছন্দ করতেন। বরং তিনি ভাবতেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর স্থানে কেউ দাঁড়ালে মানুষ তাকে সহজে গ্রহণ করবে না। তিনি আশঙ্কা করতেন, লোকেরা ওই ব্যক্তির বিষয়ে খারাপ ধারণা করতে পারে। তাই তিনি চেয়েছিলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) যেন এই দায়িত্ব আবু বকর (রাঃ)-এর বদলে অন্য কাউকে দেন। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কখনো কোনো আপত্তির পেছনে ভালো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এখানে আয়িশা (রাঃ)-এর অন্তরের কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে, এবং আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামতের বিষয়ও সরাসরি উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের কথাবার্তার আশঙ্কা কখনো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
- আয়িশা রাঃ নিজের আপত্তির কারণ পরিষ্কার করে বলেছেন।
- আবু বকর রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশে ইমামতির দায়িত্ব পান।
- কাউকে নিয়ে ভুল ধারণা হওয়ার ভয় থেকেও কেউ কথা বলতে পারে।
