৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ

নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴿إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴾.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."

নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে আদব: মতভেদ ও চেঁচামেচির ক্ষতি

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৩২

عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا حُضِرَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَلُمُّوْا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوْا بَعْدَهُ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ غَلَبَهُ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمْ الْقُرْآنُ حَسْبُنَا كِتَابُ اللهِ فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ وَاخْتَصَمُوْا فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُوْلُ قَرِّبُوْا يَكْتُبُ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوْا بَعْدَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُوْلُ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغْوَ وَالِاخْتِلَافَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قُوْمُوْا قَالَ عُبَيْدُ اللهِ فَكَانَ يَقُوْلُ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ لِاخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ.

ইবনু 'আব্বাস(রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের সময় যখন ঘনিয়ে এলো এবং ঘরে ছিল লোকের সমাবেশ, তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেই, যেন তোমরা পরবর্তীতে পথভ্রষ্ট না হয়ে যাও। তখন তাদের মধ্যকার কিছু লোক বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রোগযন্ত্রণা কঠিন হয়ে গেছে, আর তোমাদের কাছে তো কুরআন মওজুদ আছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।এ ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর পরিবারের লোকজনের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় এবং তারা পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করতে থাকেন। তাদের কেউ বললেন, তোমরা তাঁর নিকট যাও, তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিবেন। যাতে তোমরা তাঁর পরে কোন বিভ্রান্তিতে না পড়। আবার কেউ বললেন অন্য কথা। বাক-বিতণ্ডা ও মতভেদ যখন চরমে পৌঁছল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা উঠে চলে যাও।উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলতেন, এ ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের জন্য কিছু লিখে দেয়ার ব্যাপারে তাদের মতবিরোধ ও চেঁচামেচিই মূলত প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

[১১৪; মুসলিম ২৫/৫, হাঃ ১৬৩৭, আহমাদ ৪৪৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৩ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০৮৬)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ সময়ের একটি দুঃখজনক ঘটনা এসেছে। ঘরে কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি এমন কিছু লিখে দিতে চান, যাতে পরে তারা পথভ্রষ্ট না হয়। তখন কারও কারও কথা ছিল, রোগযন্ত্রণা প্রবল হয়েছে এবং আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। আবার অন্যরা বললেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যাওয়া হোক, তিনি লিখে দেবেন। এভাবে মতভেদ ও বাক-বিতণ্ডা বেড়ে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের উঠতে বলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এটিকে বড় দুঃখের ঘটনা বলেছেন, কারণ তাদের মতভেদ ও চেঁচামেচি লিখে দেওয়ার পথে বাধা হয়। এই হাদিস আদব, নীরবতা, বড়দের সামনে শৃঙ্খলা এবং দ্বীনি বিষয়ে ঝগড়া থেকে সতর্ক করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দ্বীনি বিষয়ে চেঁচামেচি ও ঝগড়া ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার সামনে বিনয় ও আদব দরকার।
  • মতভেদ কখনো কখনো বড় কল্যাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
  • ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ ঘটনাকে গভীর দুঃখের বিষয় বলেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন