৬৪/৭৮. অধ্যায়ঃ
বিদায় হাজ্জ
বিদায় হজ্জে হজ্জ-উমরাহ: আয়েশা (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ৪৩৯৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৯৫
إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لَا يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيْعًا فَقَدِمْتُ مَعَهُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ انْقُضِيْ رَأْسَكِ وَامْتَشِطِيْ وَأَهِلِّيْ بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ إِلَى التَّنْعِيْمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ قَالَتْ فَطَافَ الَّذِيْنَ أَهَلُّوْا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوْا ثُمَّ طَافُوْا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوْا مِنْ مِنًى وَأَمَّا الَّذِيْنَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوْا طَوَافًا وَاحِدًا.
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জে রওয়ানা হই। তখন আমরা উমরাহর (নিয়তে) ইহরাম বাঁধি।এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা দিলেন, যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু রয়েছে, তাঁরা যেন হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের একসঙ্গে ইহরামের নিয়ত করে এবং হজ্জ ও উমরাহ উভয়টি সমাধা করার পূর্বে হালাল না হয়।এভাবে তাঁর সঙ্গে আমি মক্কায় পৌঁছে এবং ঋতুবতী হয়ে পড়ি। এ কারণে আমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করতে পারলাম না। এ দুঃখ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার মাথার চুল ছেড়ে দাও এবং মাথা (চিরুনি দ্বারা) আঁচড়াও আর কেবল হজ্জের ইহরাম বাঁধ ও উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম।এরপর আমরা যখন হজ্জের কাজসমূহ সম্পন্ন করলাম, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর পুত্র আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈমে পাঠিয়ে দিলেন। (সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে) উমরাহ আদায় করলাম। তখন তিনি [রসূলুল্লাহ (ﷺ)] বললেন, এই উমরাহ তোমার পূর্বের কাযা উমরাহ পূর্ণ করল।আয়েশা (রাঃ) বলেন, যারা উমরাহর ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করে এবং সাফা ও মারওয়া সাঈ করার পর হালাল হয়ে যান এবং পরে মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করার পর আর এক তাওয়াফ আদায় করেন। আর যাঁরা হজ্জ ও উমরাহর ইহরাম এক সঙ্গে বাঁধেন, তাঁরা কেবল এক তাওয়াফ আদায় করেন।
[২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৬,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০৫০)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায় হজ্জের সময় আয়েশা (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁরা উমরাহর ইহরাম করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, যাদের সঙ্গে কুরবানির পশু আছে, তারা হজ্জ ও উমরাহ একসঙ্গে করবে এবং দুটো শেষ করার আগে হালাল হবে না। আয়েশা (রাঃ) মক্কায় এসে ঋতুবতী হন, তাই তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করতে পারেননি। তিনি দুঃখ জানালে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে হজ্জের ইহরাম করতে বলেন। পরে হজ্জ শেষ হলে তাঁকে তানঈম থেকে উমরাহ করানো হয়। হাদিসে হজ্জের কাজ, তাওয়াফ, সাঈ এবং অবস্থাভেদে করণীয় সম্পর্কে সরাসরি নির্দেশনা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ ও উমরাহর কাজ অবস্থাভেদে আলাদা হতে পারে।
- ঋতুবতী অবস্থায় আয়েশা (রাঃ) তাওয়াফ ও সাঈ করতে পারেননি।
- সমস্যা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনা অনুসারে সমাধান নেওয়া উচিত।
- কুরবানির পশু সঙ্গে থাকলে হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশ এসেছে।
