৬৪/৭৩. অধ্যায়ঃ
নাজরান অধিবাসীদের ঘটনা
আমানতদার ব্যক্তি নির্বাচন: আবু উবাইদা (রাঃ)-এর মর্যাদা
সহিহ বুখারী : ৪৩৮০
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৮০
عَبَّاسُ بْنُ الْحُسَيْنِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ جَاءَ الْعَاقِبُ وَالسَّيِّدُ صَاحِبَا نَجْرَانَ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُرِيْدَانِ أَنْ يُلَاعِنَاهُ قَالَ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ لَا تَفْعَلْ فَوَاللهِ لَئِنْ كَانَ نَبِيًّا فَلَاعَنَّا لَا نُفْلِحُ نَحْنُ وَلَا عَقِبُنَا مِنْ بَعْدِنَا قَالَا إِنَّا نُعْطِيْكَ مَا سَأَلْتَنَا وَابْعَثْ مَعَنَا رَجُلًا أَمِيْنًا وَلَا تَبْعَثْ مَعَنَا إِلَّا أَمِيْنًا فَقَالَ لَأَبْعَثَنَّ مَعَكُمْ رَجُلًا أَمِيْنًا حَقَّ أَمِيْنٍ فَاسْتَشْرَفَ لَهُ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قُمْ يَا أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ فَلَمَّا قَامَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا أَمِيْنُ هَذِهِ الْأُمَّةِ.
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাজরান এলাকার দুইজন সরদার আকিব এবং সাইয়িদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁর সঙ্গে মুবাহালা করতে চেয়েছিলেন। বর্ণনাকারী হুযাইফা (রাঃ) বলেন, তখন তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল, এরূপ করো না। কারণ আল্লাহর কসম! তিনি যদি নবী হয়ে থাকেন আর আমরা তাঁর সঙ্গে মুবাহালা করি তাহলে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী সন্তান-সন্ততি (কেউ) রক্ষা পাবে না।তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলল, আপনি আমাদের নিকট হতে যা চাইবেন আপনাকে আমরা তাই দেব। তবে এর জন্য আপনি আমাদের সঙ্গে একজন আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিন। আমানতদার ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে আমাদের সঙ্গে পাঠাবেন না।তিনি বললেন, আমি তোমাদের সঙ্গে এমন একজন আমানতদার পাঠাবো, যে প্রকৃতই আমানতদার এবং পাক্কা আমানতদার। এ পদে ভূষিত হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ আগ্রহান্বিত হলেন। তখন তিনি বললেন, হে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ! তুমি উঠে দাঁড়াও। তিনি যখন দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এ হচ্ছেন উম্মতের সত্যিকার আমানতদার।
[৩৭৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩১,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৫)[৭৯] পরস্পর পরস্পরকে নির্দিষ্ট পদ্বতিতে অভিসম্পাত করাকে মুবাহালা বলা হয়ে থাকে। পদ্বতিটি হলোঃ উভয় পক্ষ স্বীয় পরিবার পরিজনসহ লোকালয় ত্যাগ করে জঙ্গলে চলে যাবে এবং সেখানে এ বলে আল্লাহ্র নিকট দু'আ করবে যে, আমাদের মাধ্যে যে মিথ্যাবাদী তার প্রতি ধ্বংস নেমে আসুক।
সহিহ বুখারী হাদিস ৪৩৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আমানতদারি। নাজরানের দুই নেতা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে প্রথমে মুবাহালার কথা ভেবেছিল। কিন্তু তাদের একজন বুঝতে পারল, তিনি সত্য নবী হলে এমন কাজ তাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এরপর তারা সম্পদ দেওয়ার কথা বলল এবং তাদের সঙ্গে একজন আমানতদার ব্যক্তি পাঠানোর অনুরোধ করল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি এমন একজনকে পাঠাবেন, যিনি সত্যিকার অর্থে আমানতদার। সাহাবীগণ এই সম্মান পেতে আগ্রহী হলেন। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-কে দাঁড় করিয়ে বললেন, তিনি এই উম্মতের আমানতদার। এখানে বোঝা যায়, দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সততা ও ভরসাযোগ্যতা কত বড় গুণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আমানতদার মানুষকে বেছে নেওয়া উচিত।
- সত্য বুঝে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসা বুদ্ধিমানের কাজ।
- সাহাবীদের মধ্যে দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতি আগ্রহ ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর হাতে ছিল।
- আবু উবাইদা (রাঃ)-এর আমানতদারি এই হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
