৬৪/৬১. অধ্যায়ঃ
বিদায় হাজ্জের পূর্বে আবু মূসা আশআরী (রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু) এবং মু'আয ইবনু জাবল (রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু)-কে ইয়ামানে প্রেরণ
ফজরের সালাতে কুরআন তিলাওয়াত ও ইবরাহিম (আঃ)-এর মর্যাদা
সহীহ বুখারী : ৪৩৪৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৪৮
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَبِيْبِ بْنِ أَبِيْ ثَابِتٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُوْنٍ أَنَّ مُعَاذًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ لَمَّا قَدِمَ الْيَمَنَ صَلَّى بِهِمْ الصُّبْحَ فَقَرَأَ {وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلًا} فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ لَقَدْ قَرَّتْ عَيْنُ أُمِّ إِبْرَاهِيْمَ.زَادَ مُعَاذٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ حَبِيْبٍ عَنْ سَعِيْدٍ عَنْ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَرَأَ مُعَاذٌ فِيْ صَلَاةِ الصُّبْحِ سُوْرَةَ النِّسَاءِ فَلَمَّا قَالَ {وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلًا} قَالَ رَجُلٌ خَلْفَهُ قَرَّتْ عَيْنُ أُمِّ إِبْرَاهِيْمَ.
আম্র ইবনু মাইমূন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মু’আয (রাঃ) ইয়ামানে পৌঁছার পর লোকজনকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তাতে তিনি - وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلًا অর্থাৎ আল্লাহ ইবরাহিমকে বন্ধু বানিয়ে নিলেন- (সূরা নিসা ৪/১২৫) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। তখন কাওমের এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইবরাহিমের মায়ের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেছে। মু’আয (রাঃ) আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন আমর (রাঃ) থেকে। নিশ্চয়ই নবী (ﷺ) মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন। সেখানে মু’আয (রাঃ) ফজরের সালাতে সূরা নিসা তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি পড়লেন- وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلًا তখন তাঁর পেছনে এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইবরাহিমের মায়ের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেছে।
আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৭
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মু’আয (রাঃ)-এর ইয়ামানে পৌঁছার পর ফজরের সালাতের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি লোকদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন এবং তাতে সূরা নিসা থেকে আয়াত তিলাওয়াত করেন—আল্লাহ ইবরাহিমকে বন্ধু বানিয়ে নিয়েছেন। এই আয়াত শুনে পেছনে থাকা এক ব্যক্তি বলে ওঠে, ইবরাহিমের মায়ের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেছে। হাদিসটি মূলত ফজরের সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের একটি বাস্তব দৃশ্য তুলে ধরে। এখানে ইবরাহিম (আঃ)-এর সম্মানিত অবস্থানও বোঝা যায়, কারণ আল্লাহ তাঁকে খলীল বা বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে হাদিসে এর বাইরে কোনো বাড়তি বিধান বা দীর্ঘ আলোচনা করা হয়নি। তাই আমাদেরও এই বর্ণনার সীমার মধ্যে থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত—সালাতে কুরআনের আয়াত মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব আছে।
- কুরআনের আয়াত শ্রোতার মনে গভীর অনুভূতি জাগাতে পারে।
- ইবরাহিম (আঃ)-এর মর্যাদা কুরআনের আয়াতে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- সালাতে তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত।
