৬৪/৬১. অধ্যায়ঃ

বিদায় হাজ্জের পূর্বে আবু মূসা আশআরী (রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু) এবং মু'আয ইবনু জাবল (রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু)-কে ইয়ামানে প্রেরণ

হজে ইহরাম, তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈর নির্দেশ

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৪৬

عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيْدِ هُوَ النَّرْسِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ عَنْ أَيُّوْبَ بْنِ عَائِذٍ حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ سَمِعْتُ طَارِقَ بْنَ شِهَابٍ يَقُوْلُ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ مُوْسَى الْأَشْعَرِيُّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَرْضِ قَوْمِيْ فَجِئْتُ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُنِيخٌ بِالأَبْطَحِ فَقَالَ أَحَجَجْتَ يَا عَبْدَ اللهِ بْنَ قَيْسٍ قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ كَيْفَ قُلْتَ قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ إِهْلَالًا كَإِهْلَالِكَ قَالَ فَهَلْ سُقْتَ مَعَكَ هَدْيًا قُلْتُ لَمْ أَسُقْ قَالَ فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَاسْعَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حِلَّ فَفَعَلْتُ حَتَّى مَشَطَتْ لِي امْرَأَةٌ مِنْ نِسَاءِ بَنِيْ قَيْسٍ وَمَكُثْنَا بِذَلِكَ حَتَّى اسْتُخْلِفَ عُمَرُ

আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আমার গোত্রের এলাকায় (শাসক করে) পাঠালেন। (বিদায় হজের বছর) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান করার সময় আমি তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনু কায়স! তুমি ইহরাম বেঁধেছ কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, (তালবিয়া) কিভাবে বলেছিলে? আমি উত্তর দিলাম, আমি এরূপ বলেছি যে, হে আল্লাহ! আমি হাজির হয়েছি এবং আপনার [নবী (ﷺ)-এর] ইহরামের মতো ইহরাম বাঁধলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ কর এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ আদায় কর, তারপর হালাল হয়ে যাও। আমি সে রকমই করলাম। এমনকি বানী কাইসের জনৈকা মহিলা আমার চুল পর্যন্ত আঁচড়িয়ে দিয়েছিলেন। আর আমরা উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত এভাবেই আমল করতে থাকলাম।

[১৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০১,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৫)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৪৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু মূসা আশআরী (রাঃ)-এর হজ সংক্রান্ত একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তাঁর গোত্রের এলাকায় দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। বিদায় হজের সময়ে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আবতাহ এলাকায় উপস্থিত হন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ইহরাম বেঁধেছেন কি না এবং কীভাবে তালবিয়া বলেছেন। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরামের মতো ইহরাম বেঁধেছেন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) জিজ্ঞেস করেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানির পশু আছে কি না। তিনি না বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ এবং তারপর হালাল হতে বলেন। তিনি সেই নির্দেশ পালন করেন। হাদিসটি ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মেনে চলার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হজের কাজে নিজের অবস্থা স্পষ্টভাবে জানা ও জানানো দরকার।
  • কুরবানির পশু সঙ্গে আছে কি না—এটি ইহরামের হুকুমে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুযায়ী তাওয়াফ ও সাঈ করার পর হালাল হওয়া হয়েছে।
  • ইবাদতের বিষয়ে অনুমান না করে সঠিক নির্দেশ অনুসরণ করা উচিত।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন