৬৪/৩৫. অধ্যায়ঃ

ইফকের ঘটনা

وَالْأَفْكُ بِمَنْزِلَةِ النَّجِسِ وَالنَّجَسِ يُقَالُ إِفْكُهُمْ وَأَفَكَهُمْ وَأَفَكَهُمْ فَمَنْ قَالَ أَفَكَهُمْ يَقُولُ صَرَفَهُمْ عَنْ الْإِيمَانِ وَكَذَّبَهُمْ كَمَا قَالَ ﴾يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ﴿ يُصْرَفُ عَنْهُ مَنْ صُرِفَ[ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] أُفِكَ ও إِفْكٌ এর মতো نَجِسٌ ও نَجَسٌ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তাই আরবীয় লোকেরা বলেন, أَفَكَهُمْ ও إِفْكَهُمْ-أَفَكَهُمْ । যিনি أَفَكَهُمْ পড়েছেন, তিনি বলেন যে, এর অর্থ তাদেরকে তিনি ঈমান হতে ফিরিয়ে রেখেছিলেন এবং তাদেরকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছিলেন।"

গীবত থেকে বাঁচা ও ভালো গুণ স্বীকার: আয়েশা (রাঃ)-এর সুন্দর আচরণ

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৪৬

بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا وَعِنْدَهَا حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ يُنْشِدُهَا شِعْرًا يُشَبِّبُ بِأَبْيَاتٍ لَهُ وَقَالَ :حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيْبَةٍ وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُوْمِ الْغَوَافِلِفَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ لَكِنَّكَ لَسْتَ كَذَلِكَ قَالَ مَسْرُوْقٌ فَقُلْتُ لَهَا لِمَ تَأْذَنِيْنَ لَهُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْكِ وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى {وَالَّذِيْ تَوَلّٰى كِبْرَه” مِنْهُمْ لَه” عَذَابٌ عَظِيْمٌ}فَقَالَتْ وَأَيُّ عَذَابٍ أَشَدُّ مِنَ الْعَمَى قَالَتْ لَهُ إِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ أَوْ يُهَاجِيْ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁর কাছে হাসান ইবনে সাবিত (রাঃ) তাঁকে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনাচ্ছেন। তিনি আয়েশা (রাঃ)-এর প্রশংসায় বলেছেন, "তিনি সতী, ব্যক্তিত্বসম্পন্না ও জ্ঞানবতী, তাঁর প্রতি কোন সন্দেহই আরোপ করা যায় না। তিনি অভুক্ত থাকেন, তবুও অনুপস্থিত লোকেদের গোশত খান না (অর্থাৎ গীবত করেন না)। এ কথা শুনে আয়েশা (রাঃ) বললেন, কিন্তু আপনি তো এরূপ নন। মাসরুক (রহঃ) বলেছেন যে, 'আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কেন তাকে আপনার কাছে আসার অনুমতি দেন? অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, "তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি।" আয়েশা (রাঃ) বলেন, অন্ধত্ব থেকে কঠিনতর শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি তাঁকে আরো বলেন যে, হাসান ইবনে সাবিত (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষাবলম্বন করে কাফিরদের সঙ্গে মুকাবিলা করতেন অথবা কাফিরদের বিপক্ষে নিন্দাপূর্ণ কবিতা রচনা করতেন।

[৪৭৫৫, ৪৭৫৬; মুসলিম ৪৪/৩৪, হাঃ ২৪৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৩৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৩৭)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মাসরুক (রহঃ) বলেন, তাঁরা আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে গেলে দেখেন হাসসান ইবন সাবিত (রাঃ) তাঁর প্রশংসায় কবিতা আবৃত্তি করছেন। কবিতায় বলা হয়, তিনি সতী, ব্যক্তিত্বসম্পন্না, সন্দেহ থেকে মুক্ত; তিনি অভুক্ত থাকেন, তবুও অনুপস্থিত মানুষের গোশত খান না, অর্থাৎ গীবত করেন না। আয়েশা (রাঃ) তাঁকে বলেন, “কিন্তু আপনি তো এরূপ নন।” এরপর মাসরুক (রহঃ) প্রশ্ন করেন, তিনি কেন হাসসান (রাঃ)-কে আসতে দেন, অথচ অপবাদের আয়াতে কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, অন্ধত্বের চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি আরও বলেন, হাসসান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষে কবিতায় মুকাবিলা করতেন। হাদিসটি ন্যায়, সংযম, গীবত থেকে বাঁচা এবং মানুষের ভালো কাজ স্মরণ করার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অনুপস্থিত মানুষের দোষ বলা থেকে বিরত থাকা ভালো চরিত্রের অংশ।
  • কারও ভুল থাকলেও তার ভালো কাজ অস্বীকার করা উচিত নয়।
  • আয়েশা (রাঃ) কঠিন ঘটনার পরও ন্যায্য কথা বলেছেন।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষে কাজ করা হাসসান (রাঃ)-এর একটি উল্লেখযোগ্য ভালো দিক ছিল।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন