৬৪/৩১. অধ্যায়ঃ

আহযাব নবী (ﷺ)-এর প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর বনু কুরাইযাহ অভিযান ও তাদের অবরোধ

খন্দকের যুদ্ধ ও সা’দ (রাঃ)-এর দোয়া: ঈমানি দৃঢ়তার পাঠ

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১২২

زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أُصِيْبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ رَمَاهُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ حِبَّانُ بْنُ الْعَرِقَةِ وَهُوَ حِبَّانُ بْنُ قَيْسٍ مِنْ بَنِيْ مَعِيْصِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ رَمَاهُ فِي الْأَكْحَلِ فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ لِيَعُوْدَهُ مِنْ قَرِيْبٍ فَلَمَّا رَجَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْخَنْدَقِ وَضَعَ السِّلَاحَ وَاغْتَسَلَ فَأَتَاهُ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَام وَهُوَ يَنْفُضُ رَأْسَهُ مِنَ الْغُبَارِ فَقَالَ قَدْ وَضَعْتَ السِّلَاحَ وَاللهِ مَا وَضَعْتُهُ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَيْنَ فَأَشَارَ إِلَى بَنِيْ قُرَيْظَةَ فَأَتَاهُمْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلُوْا عَلَى حُكْمِهِ فَرَدَّ الْحُكْمَ إِلَى سَعْدٍ قَالَ فَإِنِّيْ أَحْكُمُ فِيْهِمْ أَنْ تُقْتَلَ الْمُقَاتِلَةُ وَأَنْ تُسْبَى النِّسَاءُ وَالذُّرِّيَّةُ وَأَنْ تُقْسَمَ أَمْوَالُهُمْ قَالَ هِشَامٌ فَأَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ سَعْدًا قَالَ اللهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أُجَاهِدَهُمْ فِيْكَ مِنْ قَوْمٍ كَذَّبُوْا رَسُوْلَكَ وَأَخْرَجُوْهُ اللهُمَّ فَإِنِّيْ أَظُنُّ أَنَّكَ قَدْ وَضَعْتَ الْحَرْبَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ فَإِنْ كَانَ بَقِيَ مِنْ حَرْبِ قُرَيْشٍ شَيْءٌ فَأَبْقِنِيْ لَهُ حَتَّى أُجَاهِدَهُمْ فِيْكَ وَإِنْ كُنْتَ وَضَعْتَ الْحَرْبَ فَافْجُرْهَا وَاجْعَلْ مَوْتَتِيْ فِيْهَا فَانْفَجَرَتْ مِنْ لَبَّتِهِ فَلَمْ يَرُعْهُمْ وَفِي الْمَسْجِدِ خَيْمَةٌ مِنْ بَنِيْ غِفَارٍ إِلَّا الدَّمُ يَسِيْلُ إِلَيْهِمْ فَقَالُوْا يَا أَهْلَ الْخَيْمَةِ مَا هَذَا الَّذِيْ يَأْتِيْنَا مِنْ قِبَلِكُمْ فَإِذَا سَعْدٌ يَغْذُوْ جُرْحُهُ دَمًا فَمَاتَ مِنْهَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ

আয়েশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

খন্দকের যুদ্ধে সা’দ (রাঃ) আহত হয়েছিলেন। কুরাইশ গোত্রের হিব্বান ইবনু আরিকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর উভয় বাহুর মধ্যবর্তী রগে তীর বিদ্ধ করেছিল। নিকট থেকে তার সেবা করার জন্য নবী (ﷺ) মসজিদে নববীতে একটি তাঁবু তৈরি করেছিলেন।রসূলুল্লাহ (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যখন অস্ত্র রেখে গোসল শেষ করলেন, তখন জিবরীল (আঃ) নিজ মাথার ধূলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি এখনো তা রেখে দেইনি। চলুন তাদের দিকে। নবী (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন কোথায়? তিনি বনী কুরাইজা গোত্রের প্রতি ইশারা করলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু কুরাইজার মহল্লায় এলেন। অবশেষে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফয়সালা মান্য করে দুর্গ থেকে নিচে নেমে এল। কিন্তু তিনি ফয়সালার ভার সা’দ (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করলেন। তখন সা’দ (রাঃ) বললেন, তাদের ব্যাপারে আমি এই ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও সন্তানদেরকে বন্দি করা হবে এবং তাদের ধন সম্পদ বণ্টন করা হবে।বর্ণনাকারী হিশাম (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আয়েশা (রাঃ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, সা’দ (রাঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন, আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চেয়ে কোনো কিছুই আমার কাছে অধিক প্রিয় নয়। যে সম্প্রদায় আপনার রসূলকে মিথ্যাচারী বলেছে এবং দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। হে আল্লাহ! আমি মনে করি (খন্দক যুদ্ধের পর) আপনি তো আমাদের ও তাদের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। যদি এখনো কুরাইশদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বাকী থেকে থাকে, তাহলে আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন, যাতে আমি আপনার রাস্তায় তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারি। আর যদি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষত হতে রক্ত প্রবাহিত করুন আর আমার তাতেই মৃত্যু দিন। এরপর তাঁর ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে প্রবাহিত হতে লাগল। মসজিদে বনী গিফার গোত্রের একটি তাঁবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখে তারা বললেন, হে তাঁবুবাসীগণ! আপনাদের দিক থেকে এসব কী আমাদের দিকে আসছে? পরে তাঁরা জানালেন যে, সা’দ (রাঃ)-এর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ জখমের কারণেই তিনি মারা যান, আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট থাকুন।

[৪৬৩, মুসলিম ৩২/২২, হাঃ ১৭৬৯, আহমাদ ২৪৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৬,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২০)

সহিহ বুখারী হাদিস ৪১২২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খন্দকের যুদ্ধের পরের একটি বড় ঘটনা এসেছে। সা’দ (রাঃ) তীরের আঘাতে আহত হন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর সেবা কাছ থেকে করার জন্য মসজিদে তাঁবু স্থাপন করেন। পরে জিবরীল (আঃ) এসে নবী صلى الله عليه وسلم-কে বনু কুরাইযার দিকে যাওয়ার ইশারা করেন। তারা নবী صلى الله عليه وسلم-এর ফয়সালা মেনে নেমে এলে তিনি ফয়সালার ভার সা’দ (রাঃ)-এর উপর দেন। সা’দ (রাঃ) তাদের যোদ্ধা, নারী-সন্তান এবং সম্পদের ব্যাপারে ফয়সালা দেন। এরপর তাঁর দোয়া বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি আল্লাহর পথে জিহাদের ইচ্ছা এবং নিজের শেষ অবস্থা আল্লাহর হাতে সোপর্দ করেন। হাদিসটি দোয়া, আল্লাহর পথে দৃঢ়তা এবং আহত অবস্থায়ও দ্বীনের কাজের প্রতি মনোযোগের শিক্ষা দেয়। এখানে তাঁর মৃত্যু ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে—এ কথাই হাদিসে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কঠিন আঘাতের মধ্যেও সা’দ (রাঃ) আল্লাহর পথে দৃঢ় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
  • নবী صلى الله عليه وسلم আহত সাহাবীর সেবা কাছ থেকে করার ব্যবস্থা করেছেন।
  • বড় সিদ্ধান্তে যোগ্য ব্যক্তির ফয়সালা গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • দোয়ায় নিজের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে সোপর্দ করার শিক্ষা আছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন