৬৪/৩১. অধ্যায়ঃ

আহযাব নবী (ﷺ)-এর প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর বনু কুরাইযাহ অভিযান ও তাদের অবরোধ

হিবা ও দানের ন্যায্যতা: খেজুর গাছের ঘটনার শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১২০

ابْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ ح و حَدَّثَنِيْ خَلِيْفَةُ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ الرَّجُلُ يَجْعَلُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم النَّخَلَاتِ حَتَّى افْتَتَحَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيْرَ وَإِنَّ أَهْلِيْ أَمَرُوْنِيْ أَنْ آتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْأَلَهُ الَّذِيْ كَانُوْا أَعْطَوْهُ أَوْ بَعْضَهُ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَعْطَاهُ أُمَّ أَيْمَنَ فَجَاءَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَجَعَلَتْ الثَّوْبَ فِيْ عُنُقِيْ تَقُوْلُ كَلَّا وَالَّذِيْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَا يُعْطِيْكَهُمْ وَقَدْ أَعْطَانِيْهَا أَوْ كَمَا قَالَتْ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ لَكِ كَذَا وَتَقُوْلُ كَلَّا وَاللهِ حَتَّى أَعْطَاهَا حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ عَشَرَةَ أَمْثَالِهِ أَوْ كَمَا قَالَ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

লোকেরা নবী (ﷺ)-কে খেজুর গাছ হাদিয়া দিতেন। অতঃপর যখন তিনি বানু কুরাইযা ও বানু নাযীরের উপর জয়লাভ করলেন তখন আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে নির্দেশ দিল, যেন আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে তাদের দেয়া সবগুলো খেজুর গাছ অথবা কিছু সংখ্যক খেজুর গাছ তাঁর নিকট থেকে ফেরত গ্রহণের ব্যাপারে নিবেদন করি। আর নবী (ﷺ) ঐ গাছগুলো উম্মু আইমান (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। উম্মু আইমান (রাঃ) আসলেন এবং আমার গলায় কাপড় লাগিয়ে বললেন, এটা কখনো হতে পারে না। সেই আল্লাহর কসম! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি ঐ গাছগুলো তোমাকে আর দেবেন না। তিনি এগুলো আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) যেমন তিনি বলেছেন। এদিকে নবী (ﷺ) বলছিলেন, তুমি ঐ গাছগুলোর বদলে আমার নিকট থেকে এত এত পাবে। কিন্তু উম্মু আইমান (রাঃ) বলছিলেন, আল্লাহর কসম! এটা কক্ষনো হতে পারে না। অবশেষে নবী (ﷺ) তাকে দিলেন। বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় নবী (ﷺ) বললেন, এর দশগুণ অথবা যেমন তিনি বলেছেন।

[২৬৩০; মুসলিম ৩২/২৪, হাঃ ১৭৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮১৭)

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খেজুর গাছ হাদিয়া দেওয়া, পরে তা ফেরত চাওয়া, এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের একটি স্পষ্ট ছবি দেখা যায়। লোকেরা আগে নবী صلى الله عليه وسلم-কে খেজুর গাছ দিতেন। পরে বানু কুরাইযা ও বানু নাযীরের উপর জয় লাভের পর আনাস (রাঃ)-এর পরিবার সেই গাছগুলো বা কিছু অংশ ফেরত চাইতে বলল। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم তখন গাছগুলো উম্মু আইমান (রাঃ)-কে দান করে দিয়েছিলেন। তাই বিষয়টি শুধু সম্পদ ফেরত নেওয়ার ছিল না; এতে একজনকে দেওয়া দানের অধিকারও জড়িত ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم উম্মু আইমান (রাঃ)-কে বদলে আরও বেশি দেওয়ার কথা বলেন। এতে বোঝা যায়, হিবা ও দানের ক্ষেত্রে ন্যায়, সম্মান এবং কারও পাওনা নষ্ট না করার শিক্ষা আছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দান, বদলা এবং মানুষের অধিকার—সবকিছুতেই ভারসাম্য রাখা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দান করা জিনিসের সঙ্গে অন্যের অধিকার জড়িয়ে গেলে তা হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
  • কোনো দাবি উঠলে ন্যায়ভাবে সমাধান করা নবী صلى الله عليه وسلم-এর আদর্শ থেকে শেখা যায়।
  • কারও প্রাপ্য রক্ষা করতে হলে উত্তম বদলা দেওয়ার পথও গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • সম্পদ নিয়ে কথা বলার সময় আবেগের পাশাপাশি ইনসাফের দিকও দেখা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন