৬৪/১৭. অধ্যায়ঃ
উহুদ যুদ্ধ
وَقَوْلِهِ تَعَالَى ﴿وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ﴾ وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ﴿وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (١٣٩) إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ د وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ ج وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ أَمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ ط وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّلِمِينَ لَا (١٤٠) وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ أَمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَفِرِينَ (١٤١) أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّبِرِينَ (١٤٢) وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلْقَوْهُ ص فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ ع (١٤٣)﴾ وَقَوْلِهِ ﴿وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُمْ بِإِذْنِهِ ج حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُمْ مِنْ بَعْدِ مَا أَرَاكُمْ مَا تُحِبُّونَ ط مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْأَخِرَةَ ج ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ج وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ ط وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ (١٥٢)﴾ وَقَوْلِهِ ﴿وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا﴾ الْآيَةَমহান আল্লাহর বাণী: “হে রাসূল (ﷺ)! আর স্মরণ কর, যখন তুমি তোমার পরিজনদের নিকট হতে ভোরবেলায় বের হয়ে মুমিনদের যুদ্ধের জন্য ঘাঁটিতে বিন্যস্ত করছিলে, আর আল্লাহ তা‘আলা তো সব শোনেন, সব জানেন” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/১২১)। আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা সাহস হারিও না এবং দুঃখও কর না, তোমরাই পরিণামে বিজয়ী হবে, যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হও। যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে তবে অনুরূপ আঘাত তো তাদেরও লেগেছিল। আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মাঝে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত করি। যাতে আল্লাহ জানতে পারেন কারা ঈমান এনেছে এবং যাতে তিনি তোমাদের মধ্য থেকে কতককে শাহীদরুপে গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ যালিমদের ভালবাসেন না। এবং যাতে আল্লাহ নির্মল করতে পারেন মুমিনদের আর নিপাত করতে পারেন কাফিরদের। তোমরা কি ধারণা কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনও আল্লাহ প্রকাশ করেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল? আর তোমরা তো মরণ কামনা করতে মৃত্যুর সম্মুখিন হওয়ার পূর্বেই। এখন তো তোমরা তা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছ” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/১৩৯-১৪৩)। মহান আল্লাহর বাণী: “আর আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি তোমাদের সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছেন যখন তোমরা কাফিরদের খতম করছিলে তাঁরই আদেশে। তারপর তোমরা সাহস হারিয়ে ফেললে এবং পরস্পর মতবিরোধ করলে নির্দেশ পালনে, আর যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদের দেখাবার পরও তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের মাঝে কতক এরূপ ছিল যারা কামনা করছিল দুনিয়া এবং কতক কামনা করছিল আখিরাত। তারপর পরীক্ষা করার জন্য তিনি তাদের থেকে তোমাদের ফিরিয়ে দিলেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহ তো মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/১৫২)। মহান আল্লাহর বাণী: “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তোমরা কখনও তাদের মৃত ধারণা কর না। বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং জীবিকাপ্রাপ্ত” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/১৬৯)।"
দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্কতা: কাউসার হাউজ ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিদায়ী উপদেশ
সহিহ বুখারী : ৪০৪২
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪০৪২
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيْمِ أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ حَيْوَةَ عَنْ يَزِيْدَ بْنِ أَبِيْ حَبِيْبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ صَلَّى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ بَعْدَ ثَمَانِيْ سِنِيْنَ كَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَاءِ وَالأَمْوَاتِ ثُمَّ طَلَعَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ إِنِّيْ بَيْنَ أَيْدِيْكُمْ فَرَطٌ وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيْدٌ وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ وَإِنِّيْ لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامِيْ هَذَا وَإِنِّيْ لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوْا وَلَكِنِّيْ أَخْشَى عَلَيْكُمْ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوْهَا قَالَ فَكَانَتْ آخِرَ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আট বছর পর নবী (ﷺ) উহুদের শহীদদের জন্য (কবরস্থানে) এমনভাবে দোয়া করলেন যেমন কোনো বিদায় গ্রহণকারী জীবিত ও মৃতদের জন্য দোয়া করেন। তারপর তিনি (ফিরে এসে) মিম্বারে উঠে বললেন, “আমি তোমাদের অগ্রে প্রেরিত এবং আমি তোমাদের সাক্ষীদাতা। এরপর (কাউসার) হাউজের ধারে তোমাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটবে। আমার এ স্থান থেকেই আমি হাউজ দেখতে পাচ্ছি। তোমরা শির্কে জড়িয়ে যাবে আমি এ ভয় করি না। তবে আমার আশংকা হয় যে, তোমরা দুনিয়ায় সুখ-শান্তি লাভে প্রতিযোগিতা করবে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার এ দর্শনই ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে শেষবারের মতো দর্শন।
[মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২২৯৬, আহমদ ১৭৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪০,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৪৪) (১৩৪৪, ৩৫৯৬, ৪০৮৫, ৬৪২৬, ৬৫৯০)আবূল ওয়াক্ত ও আসীলির বর্ণনাতে সেখানে ‘উকবাহ বিন ‘আমিরের পূর্বে ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহূদের যুদ্ধে বলেছিলেনঃ সেহেতু তার মতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত কথাটি বাদরের দিন বলেছিলেন। এই তো জিবরীল, তার ঘোড়ার মস্তকে হাত রেখে আছেন।.......... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। হাদীসটিতে দুটি কারনে পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথমতঃ হাদীসটি সনদ ও মতন সহ অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে। ফলে এখানে আবূ যর ও বুখারীর অন্য কোন গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের কেউই এটি বর্ণনা করেননি। ইমাম ইসমা’ঈলী ও আবূ না’ঈম কেউ এটিকে বর্ণনা করেননি। দ্বিতীয়তঃ এটি প্রসিদ্ধ যে, অত্র হাদীসের মতনে বাদ্র যুদ্ধের বর্ণনাটিই অধিক পরিচিত, উহূদ যুদ্ধ নয়। আল্লাহ্ সাহায্যকারী।
সহিহ বুখারী হাদিস ৪০৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় দুনিয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সতর্ক থাকা। নবী صلى الله عليه وسلم আট বছর পর উহুদের শহীদদের জন্য এমনভাবে দোয়া করলেন, যেন বিদায় নিতে থাকা কেউ জীবিত ও মৃতদের জন্য দোয়া করে। এরপর তিনি মিম্বারে উঠে বলেন, তিনি অগ্রে প্রেরিত এবং উম্মতের সাক্ষীদাতা। তিনি কাউসার হাউজের কথা বলেন এবং জানান যে, উম্মতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেখানে হবে। হাদিসে একটি বিশেষ সতর্কতা এসেছে—তিনি শির্কে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় করেননি, বরং দুনিয়ার সুখ-শান্তি লাভে প্রতিযোগিতা করার ভয় করেছেন। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, দুনিয়ার নেয়ামত পেলে কৃতজ্ঞ হতে হবে, কিন্তু তা নিয়ে অন্ধ প্রতিযোগিতা যেন হৃদয়কে ব্যস্ত না করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শহীদদের জন্য দোয়া করা নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভালোবাসার পরিচয় বহন করে।
- দুনিয়ার সুখ নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা মুমিনের জন্য ঝুঁকির বিষয়।
- কাউসার হাউজের কথা মুমিনের মনে আখিরাতের আশা জাগায়।
- নবী صلى الله عليه وسلم উম্মতের কল্যাণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন।
