৬২/১. অধ্যায়ঃ

নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণের ফজিলত।

সাহাবী কিরাম [রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম] এর মর্যাদা বিষয়ক:এখান থেকে কয়েক পৃষ্ঠা পরেই নবী (ﷺ)-এর সম্মানিত সাহাবীদের মান-মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। যাতে নবী (ﷺ)-এর কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবী ও সমগ্র সাহাবায়ে কেরামদের মর্যাদা, তাঁদের প্রতি সাধারণ মুমিন মুসলমানদের ভক্তি-শ্রদ্ধা, মর্যাদাবোধ ইত্যাদি বিষয়ে একান্ত আবশ্যিক আলোচনা করা হয়েছে।উল্লেখ্য, নবী (ﷺ)-এর সমগ্র সাহাবীগণই সম্মান ও মর্যাদা পাওয়ার হকদার। সমগ্র সাহাবী (রা.)-দের মধ্যে ৪ খলীফা (রা.) মর্যাদা পাওয়ার দিক দিয়ে অন্যান্য সাহাবীদের চেয়ে বেশী হকদার এ কথা প্রত্যেক বিবেকবান লোক স্বীকার করতে একান্ত বাধ্য। উক্ত সার্বজনীন স্বীকৃত ইসলামী শরীয়তের রীতি-নীতি প্রাথমিক যুগের মুসলিম মনীষীগণ যেমন শ্রদ্ধা ভরে মেনে নিয়েছিলেন, তেমনি পরবর্তী যুগের ইসলামী মনীষীগণও উপরোক্ত বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে আসছেন। রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীগণ সকলেই দীনের ব্যাপারে ছিলেন ইনসাফকারী। যেমন নবী (ﷺ) প্রত্যেক সাহাবীদেরকেই ইনসাফকারী বলে আখ্যায়িত করে গেছেন। যথা নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين الهمدين وكلهم عدول متفق عليهতোমাদের উপর আমার রেখে যাওয়া সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শনকারী খলীফাগণের সুন্নাত অবশ্যই গ্রহণপযোগ্য এবং উক্ত খলীফাগণের প্রত্যেকেই ইনসাফকারী। অন্যত্র আছে, যার সানাদও সহীহ বটে, আর তা এই যে, আমার সব সাহাবীই ইনসাফকারী। ইমাম বুখারীর বর্ণনায় উক্ত সহীহ বুখারীর মধ্যেই كتاب فضائل الصحابة নামক অধ্যায়ের ৩৬৮৫ নং হাদীসে নবী (ﷺ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তোমরা (পরবর্তাকালে) আমার সাহাবীদেরকে গালি-গালাজ করো না।عن أبي سعيد الخدري (رض) قال قال النبي صلي الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابيউক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় সহীহ বুখারীর বিশ্বখ্যাত ভাষ্যকার ইমাম ইবন হাজার আসকালানী বলেছেন, যারা নবী (ﷺ)-কে নিজ চোখে দেখেনি, নবী (ﷺ)-এর নৈকট্য লাভের সৌভাগ্য যাদের হয়নি, এমন সকলের জন্যেই উপরোক্ত নিষেধবাণী প্রযোজ্য হবে। (ফতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা)প্রকাশ থাকে যে, পরবর্তীতে খারিজী, রাফিজী, মু’তাজিলা, জায়েদিয়া, আশারিয়া, ইসমা‘ঈলিয়া তথা শিয়া মাযহাবের লোকজন নিজেদের ভ্রান্ত-ধারণার বশবর্তী হয়ে নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদের বিরুদ্ধে অনেক অনেক অপবাদ দেয়ার মতো ধৃষ্টতা ও অপরাধপূর্ণ সমালোচনা লিপ্ত হয়ে মুসলিম জাতিকে পারস্পরিক বিভেদ ও বিচ্ছেদের প্ররোচনা দিয়েছে। যা প্রতিটি বিবেকবান মুসলমানের নিকট অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বটে।শরীয়তের বিধিবিধানকে স্পষ্ট করার জন্য এবং সঠিকভাবে মান্য করার জন্য সাহাবীগণ (রা.) যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে তার উপর বহাল থাকতে হবে। যেমন কুরআন একত্রিকরণ, খলীফা নির্ধারণ, ‘উসমান (রা.) কর্তৃক তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজারের মধ্যে জুমু‘আর দিন দ্বিতীয় আযান চালু করা। (বর্তমানে মাইকের আযান দূর দূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত বিধায় এখন এ আযান নিষ্প্রয়োজন।বুখারী الصحابة فضائل কিতাব পর্বে সহীহ সানাদে হাদীসসমূহে আছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একজন স্বীয় ঘরে অবস্থান করছিলেন, এমন সময় আবূ মূসা আল আশ‘আরী বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রা.) অনুমতি চায় (প্রবেশের জন্য)। নবী (ﷺ) বললেন, তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো এবং তাঁকে বেহেশতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। অতঃপর ‘উমার (রা.) অনুমতি চাইলে তাঁকেও এমনই বলে সুসংবাদ দেয়া হলো। (বুখারী হাঃ ৩৬৭৩, বিস্তারিত ব্যাখ্যা- ফতহুল বারী ৫ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠা)এভাবেই ৪ খলীফা সহ জলীলুল কদর কয়েকজন সাহাবী সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল বিভিন্ন সময় অনেক সুসংবাদ জাতীয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন আল্লাহর আদেশক্রমে। এ জাতীয় জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের সংখ্যা ১০ জন।এতদ্ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের ব্যাপারেও নবী (ﷺ) স্বীয় পবিত্র মুখে চমৎকার মন্তব্য ক’রে তাদেরকে বিশ্ববাসীর নিকট সম্মানিত করেছেন। সুতরাং সাহাবীদের ব্যাপারে মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন আবশ্যক। অতিব পরিতাপের ও দুঃখের বিষয় এই যে, শিয়া মাযহাবের লোকজন ইসলামের উচ্চ সম্মানিত ১ম থেকে ৩য় খলীফা (রা.)-দেরকে জবরদস্তিমূলক খিলাফত দখলকারী, অন্যায়কারী, অত্যাচারী পর্যন্ত বলার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। পক্ষান্তরে ‘আলী (রা.)-এর প্রতি অতিরিক্ত মর্যাদা দিতে গিয়ে তারা তাঁকে পায় নবুয়্যাতের কাছাকাছি বা সম মর্যাদায় নিয়ে গেছে। আর কেউ কেউ শিয়াদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহামতি ইমাম হুসাইন (রা.)-কে গদীলোভী, অথবা রাষ্ট্রীয় শৃংখলা বিনষ্টকারী হিসেবে আখ্যায়িত করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইমাম হাসান, হুসাইন (রা.) আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, আর আহলে বাইতদের প্রতি মুহাব্বাত রাখার নির্দেশ সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনেও তাদের পবিত্রতা এভাবে ঘোষিত হয়েছে-إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا) (الأحزاب: من الآية٣٣সবশেষে সাহাবীদের ব্যাপারে সমীহ ভাবপ্রদর্শন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।"

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩৬৫০

حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، سَمِعْتُ زَهْدَمَ بْنَ مُضَرِّبٍ، سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ عِمْرَانُ فَلاَ أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا ‏"‏ ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذُرُونَ وَلاَ يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ ‏"‏‏.‏

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। ইমরান (রাঃ) বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু’যুগ অথবা তিন যুগ বলেছেন, তা আমার স্মরণ নেই।অতঃপর এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে, অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মানত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না। তারা হবে চর্বিওয়ালা মোটাসোটা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন