২/২৪. অধ্যায়ঃ
যুলুমের প্রকারসমূহ।
শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম: ঈমানকে শিরক থেকে বাঁচানোর হাদিস
সহীহ বুখারী : ৩২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩২
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح. قَالَ وَحَدَّثَنِي بِشْرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتِ {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}.
‘আবদুল্লাহ্ (ইব্নু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘‘যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করেনি’’- (সূরা আন‘আম ৬/৮২)। এ আয়াত নাযিল হলে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর সাহাবীগণ বললেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে জুলুম করেনি?’ তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে অধিকতর জুলুম’’-(সূরা লুকমান ৩১/১৩)।
(৩৩৬০ ৩৪২৮, ৩৪২৯, ৪৬২৯, ৪৭৭৬, ৬৯১৮, ৬৯৩৭; মুসলিম ১/৫৬ হাঃ ১২৬, আহমাদ ৪০৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩১)
সহীহ বুখারী হাদিস ৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আনআমের আয়াত নাযিলের পর সাহাবীদের অনুভূতি এসেছে। আয়াতে বলা হয়েছিল, যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুমের সঙ্গে মিশ্রিত করেনি। সাহাবীরা ভাবলেন, আমাদের মধ্যে কে আছে যে কোনো জুলুম করেনি? তখন আল্লাহ সূরা লুকমানের আয়াত নাযিল করেন: নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম। এতে বোঝা যায়, ওই স্থানে জুলুম বলতে শিরক বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কুরআনের আয়াত বুঝতে নবীজির ব্যাখ্যা কত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাওহীদ রক্ষা এবং শিরক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব খুব পরিষ্কারভাবে সামনে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক ঈমানের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ জুলুম।
- কুরআনের আয়াত বুঝতে নবীজির ব্যাখ্যা অনুসরণ করা দরকার।
- সাহাবীরা আয়াত শুনে নিজেদের ব্যাপারে চিন্তিত হতেন।
- ঈমানকে শিরক থেকে পরিষ্কার রাখা জরুরি।
