৫৬/৩১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
﴿لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً ۚ وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَىٰ وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ﴾ إِلَى قَوْلِهِ ﴿غَفُورًا رَحِيمًا﴾ (النساء : ٩٥-٩٦গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান–যাদেরও কোনো সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে–সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেক সাতেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহিদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন। এগুলো তাঁর পক্ষ থেকে পদমর্যাদা, ক্ষমা ও করুণা; আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়। (আন-নিসা ৯৫-৯৬)"
ওহী নাযিল ও অক্ষমদের ছাড়: ইবনু উম্মু মাকতুম রাঃ-এর ঘটনা
সহিহ বুখারী : ২৮৩২
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮৩২
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ الزُّهْرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ، فَأَقْبَلْتُ حَتَّى جَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَأَخْبَرَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْلَى عَلَيْهِ لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَجَاءَهُ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَهُوَ يُمِلُّهَا عَلَىَّ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ أَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ لَجَاهَدْتُ. وَكَانَ رَجُلاً أَعْمَى، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي، فَثَقُلَتْ عَلَىَّ حَتَّى خِفْتُ أَنْ تَرُضَّ فَخِذِي، ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ}.
সাহ্ল ইব্নু সা’দ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মারওয়ান ইবন হাকামকে মসজিদে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখলাম। অতঃপর আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর অবতীর্ণ আয়াত, ‘‘মুসলিমদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়” (আন-নিসা: ৯৫) যখন তাঁকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন, ঠিক সে সময় অন্ধ ইবন উম্মু মাকতুম (রাঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি জিহাদে যেতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই অংশগ্রহণ করতাম।’ সে সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওহী নাযিল করেন। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উরু আমার উরুর উপর রাখা ছিল এবং তা আমার নিকট এতই ভারী মনে হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাবার আশঙ্কা করছিলাম। অতঃপর ওহী অবতীর্ণ হবার অবস্থা দূর হল, এ সময় আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ
সহিহ বুখারী হাদিস ২৮৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর বর্ণনায় ওহী নাযিলের একটি দৃশ্য এসেছে। নবীজি صلى الله عليه وسلم তাঁকে আয়াত লিখিয়ে দিচ্ছিলেন—মুমিনদের মধ্যে যারা বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়। তখন অন্ধ ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) বলেন, তিনি যদি সক্ষম হতেন, তবে জিহাদ করতেন। এরপর নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর উপর ওহী নাযিল হয়। যায়দ (রাঃ) অনুভব করেন, নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর উরু তাঁর উরুর উপর এত ভারী হয়ে উঠেছে যে তিনি ভেঙে যাওয়ার ভয় করেন। পরে ‘গাইরু উলিদ দরার’ অংশ নাযিল হয়। হাদিসটি ওহীর গাম্ভীর্য এবং অক্ষমদের জন্য আল্লাহর দয়ার কথা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওহী নাযিলের সময় সাহাবীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখেছেন।
- অন্ধ বা অক্ষম ব্যক্তির ওজর আল্লাহর পক্ষ থেকে বিবেচিত হয়েছে।
- সক্ষমতা না থাকলে দায়িত্বের ক্ষেত্রে ছাড়ের বিষয় এসেছে।
- দ্বীনের বিধান আল্লাহর ওহীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
