৫৬/২৫. অধ্যায়ঃ
ভীরুতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা।
ভীরুতা থেকে পানাহ: সালাতের পর নববী দোয়া
সহীহ বুখারী : ২৮২২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮২২
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ الأَوْدِيَّ، قَالَ كَانَ سَعْدٌ يُعَلِّمُ بَنِيهِ هَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ كَمَا يُعَلِّمُ الْمُعَلِّمُ الْغِلْمَانَ الْكِتَابَةَ، وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْهُنَّ دُبُرَ الصَّلاَةِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ". فَحَدَّثْتُ بِهِ مُصْعَبًا فَصَدَّقَهُ.
‘আম্র ইব্নু মায়মূন আউদী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
শিক্ষক যেমন ছাত্রদের লেখা শিক্ষা দেন, সা’দ (রাঃ) তেমনি তাঁর সন্তানদের এই বাক্যগুলো শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ) সালাতের পর এগুলো থেকে পানাহ চাইতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই।’ রাবী বলেন আমি মুসআব (রাঃ)-এর নিকট হাদিসটি বর্ণনা করলে তিনি এটির সত্যতা স্বীকার করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা’দ (রাঃ)-এর একটি সুন্দর শিক্ষাদানের ছবি দেখা যায়। তিনি তাঁর সন্তানদের এই দোয়ার বাক্যগুলো এমনভাবে শেখাতেন, যেমন শিক্ষক ছাত্রদের লেখা শেখান। এতে বোঝা যায়, দোয়া শুধু মুখে বলা নয়; পরিবারে শেখানো, মনে রাখা এবং নিয়মিত আমল করার বিষয়। দোয়ায় নবীজি صلى الله عليه وسلم ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মানুষ নিজের দুর্বলতা বুঝে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেবে। সালাতের পর দোয়া, সন্তানদের দোয়া শেখানো এবং কবরের শাস্তি থেকে পানাহ চাওয়া—এই সব বিষয় হাদিসে খুব সহজভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানদের ছোটবেলা থেকে নববী দোয়া শেখানো ভালো কাজ।
- সালাতের পর আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া নবীজির আমল থেকে জানা যায়।
- ভীরুতা, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে বাঁচতে দোয়া করা উচিত।
- দোয়া শেখানোও দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
