৫৬/৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর পথের মুজাহিদদের মর্যাদা।
يُقَالُ هَذِهِ سَبِيلِي وَهَذَا سَبِيلِي قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ غُزًّا وَاحِدُهَا غَازٍ هُمْ دَرَجَاتٌ لَهُمْ دَرَجَاتٌবলা হয়ে থাকে هَذِهِ سَبِيلِي স্ত্রীলিঙ্গ ও وَهَذَا سَبِيلِي পুংলিঙ্গ অর্থাৎ উভয়ই ব্যবহার হয়, আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন غُزًّا এর এক বচন হল غَازٍ এবং هُمْ دَرَجَاتٌ এর অর্থ لَهُمْ دَرَجَاتٌ অর্থাৎ তাদের জন্য রয়েছে মর্যাদা"
ফিরদাউস জান্নাত: দোয়া, ঈমান ও মুজাহিদের মর্যাদা
সহীহ বুখারী : ২৭৯০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৯০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَصَامَ رَمَضَانَ، كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ جَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا ". فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نُبَشِّرُ النَّاسَ. قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ، أُرَاهُ فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ ". قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ عَنْ أَبِيهِ " وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যে ঈমান আনল, সালাত আদায় করল ও রমজানের সিয়াম পালন করল, সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক কিংবা স্বীয় জন্মভূমিতে বসে থাকুক, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়।সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি লোকদের এ সুসংবাদ পৌঁছে দিব না? তিনি বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন। দুইটি স্তরের ব্যবধান আকাশ ও পৃথিবীর দূরত্বের মত। তোমরা আল্লাহর কাছে চাইলে ফেরদাউস চাইবে। কেননা এটাই হলো সবচেয়ে উত্তম ও সর্বোচ্চ জান্নাত।আমার মনে হয়, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এও বলেছেন, এর উপরে রয়েছে আরশে রহমান। আর সেখান থেকে জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে। মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে (নিঃসন্দেহে) বলেন, এর উপরে রয়েছে আরশে রহমান।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, সালাত আদায় করে এবং রমজানের সিয়াম পালন করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক বা নিজের জন্মভূমিতে থাকুক—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাহাবীরা এই সুসংবাদ মানুষকে জানাতে চাইলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আরও বলেন, আল্লাহ মুজাহিদদের জন্য জান্নাতে একশটি মর্যাদার স্তর প্রস্তুত রেখেছেন। দুই স্তরের দূরত্ব আকাশ ও পৃথিবীর দূরত্বের মতো। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে চাইলে ফিরদাউস চাইবে। কারণ এটি জান্নাতের উত্তম ও উচ্চ স্থান; এর উপর আরশে রহমান এবং সেখান থেকে জান্নাতের নহর প্রবাহিত হয়—বর্ণনায় এ কথাও এসেছে। হাদিসটি ঈমান, সালাত, সিয়াম, জান্নাত, ফিরদাউস ও দোয়ার ভাষা সম্পর্কে বড় শিক্ষা দেয়। আল্লাহর কাছে চাইলে উঁচু কল্যাণ চাইতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমান, সালাত ও রমজানের সিয়াম জান্নাতের বড় পথ।
- মুজাহিদদের জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে।
- দোয়া করলে ফিরদাউস চাইতে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) শিক্ষা দিয়েছেন।
- আল্লাহর রহমতের আশা রাখতে হয়, কিন্তু ফরজ আমলও ঠিক রাখতে হয়।
