৫৬/৩. অধ্যায়ঃ
পুরুষ এবং নারীর জন্য জিহাদ করার ও শাহাদাত লাভের দোয়া।
وَقَالَ عُمَرُ اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي بَلَدِ رَسُولِكَ‘উমার (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনার রাসূলের শহরে আমাকে শাহাদাত দান করুন।’"
সমুদ্র অভিযানে সাহাবীদের মর্যাদা: উম্মু হারাম (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ২৭৮৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৮৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ، فَتُطْعِمُهُ، وَكَانَتْ أُمُّ حَرَامٍ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، فَدَخَلَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَطْعَمَتْهُ وَجَعَلَتْ تَفْلِي رَأْسَهُ، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ. قَالَتْ فَقُلْتُ وَمَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَىَّ، غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ، يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ، مُلُوكًا عَلَى الأَسِرَّةِ، أَوْ مِثْلُ الْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ ". شَكَّ إِسْحَاقُ. قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. فَدَعَا لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ وَضَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقُلْتُ وَمَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَىَّ، غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ ". كَمَا قَالَ فِي الأَوَّلِ. قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. قَالَ " أَنْتِ مِنَ الأَوَّلِينَ ". فَرَكِبَتِ الْبَحْرَ فِي زَمَانِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، فَصُرِعَتْ عَنْ دَابَّتِهَا حِينَ خَرَجَتْ مِنَ الْبَحْرِ، فَهَلَكَتْ.
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) উম্মু হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর নিকট যাতায়াত করতেন এবং তিনি আল্লাহর রসূল (ﷺ)–কে খেতে দিতেন। উম্মু হারাম (রাঃ) ছিলেন, উবাদা ইবন সামিত (রাঃ)-এর স্ত্রী।একদা আল্লাহর রসূল (ﷺ) তাঁর ঘরে গেলে তিনি তাঁকে আহার করান এবং তাঁর মাথার উকুন বাছতে থাকেন। এক সময় আল্লাহর রসূল (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি হাসতে হাসতে ঘুম হতে জাগলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! হাসির কারণ কী?’ তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের কিছু ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে জিহাদরত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হয়। তারা এ সমুদ্রের মাঝে এমনভাবে আরোহী যেমন বাদশাহ তখতের উপর, অথবা বলেছেন, বাদশাহর মত তখতে উপবিষ্ট।’ এ শব্দ বর্ণনায় ইসহাক (রহঃ) সন্দেহ করেছেন।উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন আমাকে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।’ আল্লাহর রসূল (ﷺ) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল (ﷺ) আবার ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসার কারণ কি?’ তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে আল্লাহর পথে জিহাদরত কিছু ব্যক্তিকে আমার সামনে পেশ করা হয়।’ পরবর্তী অংশ প্রথম উক্তির মত।উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, যেন আমাকে তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন, তুমি তো প্রথম দলের মধ্যেই আছ। অতঃপর মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ)-এর সময় উম্মু হারাম (রাঃ) জিহাদের উদ্দেশে সামুদ্রিক সফরে যান এবং সমুদ্র থেকে যখন বের হন তখন তিনি তাঁর সাওয়ারি থেকে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি শাহাদাত লাভ করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি উম্মু হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর একই অর্থবহ ঘটনা তুলে ধরে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে আপ্যায়ন করেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) ঘুম থেকে হাসিমুখে উঠে বলেন, তাঁর উম্মতের কিছু মানুষ আল্লাহর পথে সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেন তারা আসনে বসা রাজাদের মতো। উম্মু হারাম (রাঃ) সঙ্গে সঙ্গে দোয়া চান, যেন তিনি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং পরে জানান, তিনি প্রথম দলের মধ্যেই আছেন। এতে দেখা যায়, সাহাবীরা নেক সুযোগের কথা শুনলে তা থেকে দূরে থাকতে চাইতেন না। পরে তিনি সমুদ্র পথে অভিযানে যান এবং সফর শেষে সাওয়ারি থেকে পড়ে মৃত্যু বরণ করেন। হাদিসটি সমুদ্র পথে আল্লাহর পথে বের হওয়া, নবীজির দোয়ার মর্যাদা এবং নেক কাজের সুযোগ চাইতে শেখায়। এখানে বর্ণিত কথাগুলোই মূল শিক্ষা, অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেক কাজের সুযোগ শুনলে তা চাওয়ার মনোভাব প্রশংসনীয়।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের ভবিষ্যৎ একটি ঘটনা সম্পর্কে সুসংবাদ দেন।
- উম্মু হারাম (রাঃ)-এর ঘটনা দোয়ার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।
- আল্লাহর পথে সফরের কষ্টও সাহাবীরা গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন।
