৫৫/২৮. অধ্যায়ঃ
ওয়াকফ কিভাবে লিখিত হবে?
খায়বারের জমি ওয়াকফ: মূল থাকবে, উপকার পৌঁছাবে
সহীহ বুখারী : ২৭৭২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৭২
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ أَصَابَ عُمَرُ بِخَيْبَرَ أَرْضًا فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَصَبْتُ أَرْضًا لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ مِنْهُ، فَكَيْفَ تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ حَبَّسْتَ أَصْلَهَا، وَتَصَدَّقْتَ بِهَا ". فَتَصَدَّقَ عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ، فِي الْفُقَرَاءِ وَالْقُرْبَى وَالرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالضَّيْفِ وَابْنِ السَّبِيلِ، وَلاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ، أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ.
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর (রাঃ) খায়বারের কিছু জমি লাভ করেন। তিনি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, আমি এমন ভাল একটি জমি পেয়েছি, যা ইতোপূর্বে কখনো পাইনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কী নির্দেশ দেন?তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে আসল জমিটি ওয়াকফ করে তার উৎপন্ন সদকা করতে পার। উমর (রাঃ) এটি গরীব, আত্মীয়-স্বজন, গোলাম আযাদ, আল্লাহর পথে, মেহমান ও মুসাফিরদের জন্য এ শর্তে সদকা করলেন যে, আসল জমি বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না, কেউ এর ওয়ারিস হবে না। তবে যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ খেতে বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়াতে কোন দোষ নেই। তবে এ থেকে সঞ্চয় করা যাবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ)-এর খায়বারের জমির ঘটনা এসেছে। তিনি এমন একটি জমি পান, যা তাঁর কাছে খুব মূল্যবান ছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জানতে চান, এ বিষয়ে তিনি কী করবেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ইচ্ছা করলে আসল জমি আটকে রাখো এবং তা থেকে সদকা করো। এরপর উমর (রাঃ) শর্ত করেন যে আসল জমি বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না। এর উপকার যাবে গরীব, আত্মীয়-স্বজন, দাস মুক্তি, আল্লাহর পথ, মেহমান ও মুসাফিরদের জন্য। মুতাওয়াল্লী সঙ্গত পরিমাণ খেতে বা বন্ধুকে খাওয়াতে পারবে, তবে সঞ্চয় করবে না। এই হাদিস ওয়াকফের মূলনীতি বুঝতে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়াকফে মূল সম্পদ স্থায়ী রেখে তার উপকার মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।
- প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদও আল্লাহর পথে দেওয়া যায়।
- ওয়াকফের শর্ত পরিষ্কার করে দেওয়া ভালো।
- মুতাওয়াল্লীর ব্যবহার সঙ্গত ও সীমিত হওয়া উচিত।
