৫৫/৩. অধ্যায়ঃ
এক তৃতীয়াংশ অসীয়ত করা প্রসঙ্গে।
وَقَالَ الْحَسَنُ لَا يَجُوزُ لِلذِّمِّيِّ وَصِيَّةٌ إِلَّا الثُّلُثَ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى ﴿وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ﴾ (المائدة : ٤٩হাসান বাসরী (রহ.) বলেন, যিম্মির জন্য এক তৃতীয়াংশের বেশি ওসীয়াত করা বৈধ নয়। ইবন ‘আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তিনি যেন আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী যিম্মিদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তাদের মধ্যে ফয়সালা কর, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী। (আল-মায়িদা ৪৯)"
ওসিয়তের নিয়ম: অর্ধেক নয়, এক-তৃতীয়াংশও বেশি
সহীহ বুখারী : ২৭৪৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৪৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ هَاشِمٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ مَرِضْتُ فَعَادَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ لاَ يَرُدَّنِي عَلَى عَقِبِي. قَالَ " لَعَلَّ اللَّهَ يَرْفَعُكَ وَيَنْفَعُ بِكَ نَاسًا ". قُلْتُ أُرِيدُ أَنْ أُوصِيَ، وَإِنَّمَا لِي ابْنَةٌ ـ قُلْتُ ـ أُوصِي بِالنِّصْفِ قَالَ " النِّصْفُ كَثِيرٌ ". قُلْتُ فَالثُّلُثِ. قَالَ " الثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ ". قَالَ فَأَوْصَى النَّاسُ بِالثُّلُثِ، وَجَازَ ذَلِكَ لَهُمْ.
আমির ইব্নু সা‘দ (রহঃ) -এর পিতা সা‘দ ইব্নু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাকে পেছন দিকে ফিরিয়ে না নেন। তিনি বললেন, আশা করি আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার দ্বারা লোকদের উপকৃত করবেন। আমি বললাম, আমি ওসিয়ত করতে চাই। আমার তো একটি মাত্র কন্যা রয়েছে। আমি আরও বললাম, আমি অর্ধেক ওসিয়ত করতে চাই। তিনি বললেন, অর্ধেক অনেক অধিক। আমি বললাম, এক তৃতীয়াংশ। তিনি বললেন, আচ্ছা এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশও অধিক বা তিনি বলেছেন বিরাট। সা‘দ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা এক তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করতে লাগল। আর তা-ই তাদের জন্য জায়েয হয়ে গেল।
[১] অর্থাৎ যেখান হতে হিজরত করে এসেছি সেখানে যেন আমার মৃত্যু না হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা‘দ (রাঃ) বলেন, তিনি অসুস্থ হলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে দেখতে আসেন। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়ার অনুরোধ করেন, যেন তাঁকে পেছনে ফিরিয়ে না নেওয়া হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আশা করি আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বাড়াবেন এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হবে। এরপর সা‘দ (রাঃ) তাঁর সম্পদ ওসিয়ত করতে চান, কারণ তাঁর একটি মাত্র কন্যা ছিল। তিনি অর্ধেক ওসিয়তের কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, অর্ধেক অনেক। এক-তৃতীয়াংশের কথা বললে তিনি বলেন, এক-তৃতীয়াংশ, আর সেটিও অনেক বা বড়। পরে লোকেরা এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করতে থাকে এবং তা তাদের জন্য জায়েয হয়। এখানে ওসিয়ত, ওয়ারিসের হক এবং সম্পদে ভারসাম্য স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অর্ধেক সম্পদ ওসিয়ত করা থেকে নবী (صلى الله عليه وسلم) বিরত করেছেন।
- এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত জায়েয হলেও সেটিকে বেশি বলা হয়েছে।
- ওসিয়ত করার সময় পরিবারের অধিকার ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
