৫৫/১. অধ্যায়ঃ
অসীয়ত প্রসঙ্গে
وَقَوْلِ النَّبِيِّ ﷺ وَصِيَّةُ الرَّجُلِ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُوَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴿كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا ۖالْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ فَمَنْ بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ فَمَنْ خَافَ مِنْ مُوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾ ( البقرة : ١٨٠-١٨٢এবং নবী (ﷺ)-এর বাণী, মানুষের ওসীয়াত তার নিকট লিখিত থাকবে।আল্লাহ তা‘আলা বলেন তোমাদের কারো মৃত্যুকাল উপস্থিত হলে সে যদি ধন-সম্পত্তি রেখে যায় তবে তা ন্যায্য পন্থায় তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওয়াসিয়াত করার বিধান .....পক্ষপাতিত্ব পর্যন্ত। (আল-বাকারা: ১৮০-১৮২) جَنَفًا অর্থ-ঝুঁকে যাওয়া, পক্ষপাতিত্ব করা مُتَجَانِفٌ ঐ ব্যক্তি, যে ঝুঁকে পড়ে, পক্ষপাতিত্ব করে।"
ওসিয়ত লিখে রাখা: মুসলিমের দায়িত্বশীলতার হাদিস
সহীহ বুখারী : ২৭৩৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৩৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ، يُوصِي فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ، إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ ". تَابَعَهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرٍو عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় যে, তার ওসিয়তযোগ্য কিছু (সম্পদ) রয়েছে, সে দু’রাত কাটাবে অথচ তার নিকট তার ওসিয়ত লিখিত থাকবে না।মুহাম্মদ ইবন মুসলিম (রহঃ) এ হাদীস বর্ণনায় মালিক (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। এ সনদে আমর (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) মুসলিম ব্যক্তির ওসিয়ত নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। যার কাছে ওসিয়তযোগ্য কিছু সম্পদ আছে, তার উচিত নয় যে সে দুই রাত কাটাবে অথচ তার ওসিয়ত লিখিত অবস্থায় থাকবে না। এখানে মূল কথা হলো, মানুষ যেন নিজের সম্পদ, পাওনা, দেনা বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অস্পষ্ট রেখে না যায়। ওসিয়ত লিখে রাখলে মৃত্যুর পর পরিবারে ঝগড়া কমতে পারে এবং হকদারদের বিষয় পরিষ্কার থাকে। হাদিসটি দায়িত্বশীল জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। মৃত্যু কখন আসবে মানুষ জানে না, তাই ওসিয়তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরে করার জন্য ফেলে রাখা ঠিক নয়। তবে ওসিয়ত অবশ্যই শরীয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে—এটি সাধারণ ইসলামী নীতির আলোকে বলা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওসিয়তযোগ্য সম্পদ থাকলে ওসিয়ত লিখে রাখা উচিত।
- নিজের সম্পদ ও দায়িত্বের বিষয় পরিষ্কার রাখা ভালো।
- ওসিয়ত পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- মৃত্যুর প্রস্তুতি দায়িত্বশীল মুসলিম জীবনের অংশ।
