৫৪/১৩. অধ্যায়ঃ
ওয়ালা’র ব্যাপারে অধিকার অর্জনের শর্তারোপ।
আল্লাহর কিতাবের বাইরে শর্ত বাতিল: বারীরা (রাঃ)-এর শিক্ষা
সহিহ বুখারী : ২৭২৯
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭২৯
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْنِي بَرِيرَةُ فَقَالَتْ كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ، فَأَعِينِينِي. فَقَالَتْ إِنْ أَحَبُّوا أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ، وَيَكُونَ وَلاَؤُكِ لِي فَعَلْتُ. فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا، فَقَالَتْ لَهُمْ، فَأَبَوْا عَلَيْهَا، فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِهِمْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ، فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَبَوْا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ. فَسَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلاَءَ، فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ". فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ " مَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهْوَ بَاطِلٌ، وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ، قَضَاءُ اللَّهِ أَحَقُّ، وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ، وَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ".
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরা (রাঃ) আমার নিকট এসে বলল, আমি আমার মালিকের সঙ্গে নয় উকিয়ার বিনিময়ে আমাকে স্বাধীন করার এক চুক্তি করেছি। প্রতি বছর এক উকিয়া করে পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন।আয়িশা (রাঃ) বললেন, তারা যদি এ শর্তে রাজি হয় যে, আমি তাদের সমস্ত প্রাপ্য একবারে দিয়ে দিই এবং তোমার ওয়ালা আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তা করব। বারীরা (রাঃ) তার মালিকের নিকট গিয়ে এ কথা বলল; কিন্তু তারা এতে অসম্মতি জানাল। অতঃপর বারীরা (রাঃ) তাদের নিকট হতে ফিরে এল। তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) উপবিষ্ট ছিলেন। বারীরা (রাঃ) বলল, আমি তাদের নিকট প্রস্তাবটি পেশ করেছি, ওয়ালার অধিকার তাদের জন্য না হলে, এতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নবী (ﷺ) শুনলেন এবং আয়েশা (রাঃ)-ও তাঁকে জানালেন।অতঃপর তিনি বললেন, তুমি বারীরাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার অধিকারের শর্ত কর। কারণ ওয়ালার অধিকার তো তারই যে মুক্ত করবে। আয়িশা (রাঃ) তাই করলেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল (ﷺ) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি করে বললেন, লোকদের কি হল যে, তারা এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই? আল্লাহর কিতাবের বহির্ভূত যে কোন শর্ত বাতিল, যদিও শত শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর হুকুম যথার্থ ও তাঁর শর্ত সুদৃঢ়। ওয়ালা তো তারই যে মুক্ত করে।
সহিহ বুখারী হাদিস ২৭২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা (রাঃ)-এর মুক্তির ঘটনা বিস্তারিতভাবে এসেছে। তিনি নিজের মুক্তির চুক্তির জন্য সাহায্য চাইলে আয়েশা (রাঃ) তাঁর প্রাপ্য একবারে দিয়ে মুক্ত করতে চান। কিন্তু মালিকপক্ষ ওয়ালার অধিকার নিজেদের জন্য চাইছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, বারীরাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত কর; কারণ ওয়ালার অধিকার তারই, যে মুক্ত করে। এরপর তিনি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর কিতাবে নেই এমন শর্ত করে, তাদের কী হলো? আল্লাহর কিতাবের বাইরে যে শর্ত, তা বাতিল—যদিও শত শর্ত হয়। এই হাদিসে শর্ত, অধিকার ও আল্লাহর হুকুমের শক্ত অবস্থান দেখা যায়। মানুষ চুক্তি করতে পারে, কিন্তু সেই চুক্তি ন্যায়ের সীমা অতিক্রম করতে পারে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর কিতাবের বাইরে অন্যায্য শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
- ওয়ালার অধিকার মুক্তিদাতার, মালিকপক্ষের শর্তে তা বদলায় না।
- চুক্তি করার সময় বৈধতা ও ন্যায়ের সীমা মানতে হবে।
- মানুষের বানানো শর্ত আল্লাহর হুকুমের উপর যেতে পারে না।
