৫৩/১২. অধ্যায়ঃ
ইমাম বিবাদ মীমাংসা করে নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরও তা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে যথার্থ হুকুম জারী করতে হবে।
পানির অধিকার নিয়ে বিবাদ: নবীজির ন্যায়বিচারের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৭০৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭০৮
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ الزُّبَيْرَ، كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّهُ خَاصَمَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِرَاجٍ مِنَ الْحَرَّةِ كَانَا يَسْقِيَانِ بِهِ كِلاَهُمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ " اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلْ إِلَى جَارِكَ ". فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ آنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " اسْقِ ثُمَّ احْبِسْ حَتَّى يَبْلُغَ الْجَدْرَ ". فَاسْتَوْعَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَئِذٍ حَقَّهُ لِلزُّبَيْرِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ ذَلِكَ أَشَارَ عَلَى الزُّبَيْرِ بِرَأْىٍ سَعَةٍ لَهُ وَلِلأَنْصَارِيِّ، فَلَمَّا أَحْفَظَ الأَنْصَارِيُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَوْعَى لِلزُّبَيْرِ حَقَّهُ فِي صَرِيحِ الْحُكْمِ. قَالَ عُرْوَةُ قَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ مَا أَحْسِبُ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ إِلاَّ فِي ذَلِكَ {فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} الآيَةَ.
যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি এক আনসারির সঙ্গে বিবাদ করেছিলেন, যিনি বদরে শরীক ছিলেন। তিনি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে প্রস্তরময় যমীনের একটি নালা সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তাঁরা উভয়ে সে নালা হতে পানি সেচ করতেন। তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) জুবাইরকে বললেন, ‘হে জুবাইর! তুমি প্রথমে পানি সেচবে। অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দেবে।’আনসারি তখন রেগে গেল এবং বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! সে আপনার ফুফুর ছেলে হওয়ার কারণে?’ এতে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর চেহারার রঙ বদলে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘তুমি সেচ কর, অতঃপর পানি আটকে রাখ, বাঁধ বরাবর পৌঁছা পর্যন্ত’।আল্লাহর রসূল (ﷺ) জুবাইর (রাঃ)-কে তাঁর পূর্ণ হক দিলেন। এর আগে জুবাইর (রাঃ)-কে তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন যা আনসারির জন্য সুবিধাজনক ছিল। কিন্তু আনসারি আল্লাহর রসূলকে রাগান্বিত করলে সুস্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে জুবাইর (রাঃ)-কে তিনি তাঁর পূর্ণ হক দান করলেন।উরওয়া (রাঃ) বলেন, জুবাইর (রাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! আমার নিশ্চিত ধারণা যে (আল্লাহর বাণী): কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ তারা তাদের নিজেদের বিবাদে আপনাকে বিচারক হিসাবে মান্য না করে- (সূরা আন-নিসা: ৬৫) আয়াতটি সে ব্যাপারেই নাযিল হয়েছিল।’
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুবাইর (রাঃ) ও এক আনসারির মধ্যে পানির নালা নিয়ে বিবাদের কথা এসেছে। তারা দুজনই সেই নালা থেকে পানি সেচ করতেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে জুবাইরকে বললেন, তুমি আগে পানি সেচবে, তারপর প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দেবে। এতে জুবাইরের অধিকারও থাকল এবং আনসারির সুবিধাও রইল। কিন্তু আনসারি রেগে গিয়ে আত্মীয়তার অভিযোগ তুললেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চেহারার রঙ বদলে গেল এবং তিনি জুবাইরকে তাঁর পূর্ণ অধিকার দিলেন। হাদিসের শেষে সূরা নিসার আয়াতের কথা এসেছে, যেখানে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর বিচার মেনে নেওয়ার গুরুত্ব বলা হয়েছে। এখানে পানির অধিকার, ন্যায়বিচার, প্রতিবেশীর সুবিধা এবং নববী সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাদে ন্যায়সঙ্গত বিচার মেনে নেওয়া জরুরি।
- অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের সুবিধাও ভাবা ভালো।
- অন্যায় অভিযোগ বিচারকের প্রতি অসম্মান সৃষ্টি করতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সিদ্ধান্ত মানা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
