৫২/১৮. অধ্যায়ঃ

বাচ্চাদের বয়োপ্রাপ্তি ও তাদের সাক্ষ্যদান।

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى ﴿وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا﴾ (النور: ٥٩) وَقَالَ مُغِيرَةُ احْتَلَمْتُ وَأَنَا ابْنُ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً وَبُلُوغُ النِّسَاءِ فِي الْحَيْضِ لِقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴿وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ﴾ إِلَى قَوْلِهِ ﴿أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ﴾ (الطلاق: ٤) وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ أَدْرَكْتُ جَارَةً لَنَا جَدَّةً بِنْتَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ سَنَةًআল্লাহ তা‘আলার বাণী: তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি চায় (সূরা আন-নূর: ৫৯)। মুগীরা (রহ.) বলেন, বারো বছর বয়সে আমি সাবালক হয়েছি। আর মেয়েরা সাবালেগা হয় হায়েয হলে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তোমাদের যে সব মেয়েরা ঋতুস্রাবের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে ........ সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত (সূরা আত-তালাক: ৪)। হাসান ইবন সালিহ (রহ.) বলেন, আমাদের এক প্রতিবেশীকে একুশ বছর বয়সেই আমি নানী হতে দেখেছি।"

প্রাপ্তবয়স্কতার বয়স ও দায়িত্ব: ইবনু উমর রাঃ-এর হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৬৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَرَضَهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَهْوَ ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً، فَلَمْ يُجِزْنِي، ثُمَّ عَرَضَنِي يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ فَأَجَازَنِي‏.‏ قَالَ نَافِعٌ فَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهْوَ خَلِيفَةٌ، فَحَدَّثْتُهُ هَذَا الْحَدِيثَ، فَقَالَ إِنَّ هَذَا لَحَدٌّ بَيْنَ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ‏.‏ وَكَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ أَنْ يَفْرِضُوا لِمَنْ بَلَغَ خَمْسَ عَشْرَةَ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

উহুদ যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তাকে (ইবনু উমরকে) পেশ করলেন, তখন তিনি চৌদ্দ বছরের বালক। (ইবনু উমর বলেন) তখন তিনি আমাকে (যুদ্ধে গমনের) অনুমতি দেননি। পরে খন্দকের যুদ্ধে তিনি আমাকে পেশ করলেন এবং অনুমতি দিলেন। তখন আমি পনের বছরের যুবক।নাফি (রহঃ) বলেন, আমি খলিফা উমর ইবনু আবদুল আজিজের নিকট গিয়ে এ হাদীস শুনালাম। তিনি বললেন, এটাই হচ্ছে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমারেখা। অতঃপর তিনি তাঁর গভর্নরদেরকে লিখিত নির্দেশ পাঠালেন যে, (সেনাবাহিনীতে) যাদের বয়স পনের হয়েছে তাদের জন্যে যেন ভাতা নির্দিষ্ট করেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ)-এর বয়সভিত্তিক একটি ঘটনা এসেছে। উহুদের দিন তিনি চৌদ্দ বছরের ছিলেন, তাই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি। পরে খন্দকের দিনে তিনি পনের বছরের হলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়। নাফি (রহঃ) এই হাদিস উমর ইবনু আবদুল আজিজের কাছে বললে তিনি এটিকে ছোট ও বড় হওয়ার সীমারেখা হিসেবে বুঝেছেন এবং পনের বছর বয়সীদের জন্য ভাতা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স, সক্ষমতা ও পরিপক্বতা বিবেচনা করা দরকার। কোনো কাজে শুধু আগ্রহ যথেষ্ট নয়; দায়িত্ব নেওয়ার মতো বয়স ও প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুরুতর দায়িত্ব দেওয়ার আগে বয়স ও সক্ষমতা বিবেচনা করা দরকার।
  • চৌদ্দ ও পনের বছরের ঘটনা প্রাপ্তবয়স্কতার সীমা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
  • শুধু আগ্রহ থাকলেই সব দায়িত্ব নেওয়া যায় না।
  • শাসন ও প্রশাসনে বয়সভিত্তিক নিয়ম রাখা বাস্তবসম্মত হতে পারে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন