৫২/১০. অধ্যায়ঃ
মিথ্যা সাক্ষ্যদান প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে।
لِقَوْلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴿وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ﴾ (الفرقان : ٧٢) وَكِتْمَانِ الشَّهَادَةِআল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর (আল্লাহর খাঁটি বান্দা তারাই) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না (সূরা আল-ফুরকান: ৭২) এবং সাক্ষ্য গোপন করা প্রসঙ্গেلِقَوْلِهِ ﴿وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ﴾ (البقرة : ٢٨٣) تَلْوُوا أَلْسِنَتَكُمْ بِالشَّهَادَةِআল্লাহ তা‘আলার বাণী: তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যারা তা গোপন করবে তাদের অন্তর অপরাধী আর তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা সব জানেন (সূরা আল-বাকারা: ২৮৩)। তোমরা সাক্ষ্য প্রদানে কথা ঘুরিয়ে বল।تَابَعَهُ غُنْدَرٌ وَأَبُو عَامِرٍ وَبَهْزٌ وَعَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ شُعْبَةَগুন্দার, আবূ ‘আমির, বাহয ও ‘আবদুস সামাদ (রহ.) শু‘বা (রহ.) হতে বর্ণনায় ওয়াহাব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।"
মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহতা: সহিহ বুখারী ২৬৫৪ এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৬৫৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৫৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ". ثَلاَثًا. قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ ". وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ " أَلاَ وَقَوْلُ الزُّورِ ". قَالَ فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْنَا لَيْتَهُ سَكَتَ. وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ.
আবূ বক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) একদা তিনবার বললেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবহিত করব না? সকলে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন; এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, শুনে রাখ! মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, এ কথাটি তিনি বার বার বলতে থাকলেন। এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, আর যদি তিনি না বলতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) তিনবার জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহগুলো জানাবেন না। সাহাবীরা বললে তিনি শির্ক ও পিতা-মাতার অবাধ্যতার কথা বলেন। এরপর তিনি হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসেন এবং বলেন, শুনে রাখ, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। তিনি কথাটি বারবার বলতে থাকেন। সাহাবীরা তাঁর বারবার বলার দৃশ্য দেখে বুঝতে পারেন, বিষয়টি খুব গুরুতর। মিথ্যা সাক্ষ্য হাদিস আমাদের শেখায়, মিথ্যা কথা মানুষের অধিকার নষ্ট করতে পারে। তাই সাক্ষ্য, অভিযোগ বা বড় কথা বলার আগে সত্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।
- পিতা-মাতার অবাধ্যতা ও শির্ক বড় গুনাহের মধ্যে এসেছে।
- সত্য না জেনে সাক্ষ্য বা অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকা দরকার।
