৫২/৫. অধ্যায়ঃ
ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীগণের প্রসঙ্গে-
﴿وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنْكُمْ﴾ (الطلاق : ٢) وَ ﴿مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ﴾ (البقرة : ٢٨٢)আল্লাহ তা‘আলার বাণী: তোমরা তোমাদের ন্যায়পরায়ণ দু’জন ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে। (সূরা আত-তালাক: ২)(আল্লাহর বাণী) সাক্ষীদের মধ্যে যাদের উপর তোমরা রাযী তাদের মধ্যে। (সূরা আল-বাকারা: ২৮২)"
প্রকাশ্য আমল ও অন্তরের হিসাব: সহিহ বুখারী ২৬৪১ এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৬৪১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৪১
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُتْبَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ إِنَّ أُنَاسًا كَانُوا يُؤْخَذُونَ بِالْوَحْىِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِنَّ الْوَحْىَ قَدِ انْقَطَعَ، وَإِنَّمَا نَأْخُذُكُمُ الآنَ بِمَا ظَهَرَ لَنَا مِنْ أَعْمَالِكُمْ، فَمَنْ أَظْهَرَ لَنَا خَيْرًا أَمِنَّاهُ وَقَرَّبْنَاهُ، وَلَيْسَ إِلَيْنَا مِنْ سَرِيرَتِهِ شَىْءٌ، اللَّهُ يُحَاسِبُهُ فِي سَرِيرَتِهِ، وَمَنْ أَظْهَرَ لَنَا سُوءًا لَمْ نَأْمَنْهُ وَلَمْ نُصَدِّقْهُ، وَإِنْ قَالَ إِنَّ سَرِيرَتَهُ حَسَنَةٌ.
‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর সময়ে কিছু ব্যক্তিকে ওহীর ভিত্তিতে পাকড়াও করা হত। এখন যেহেতু ওহী বন্ধ হয়ে গেছে, সেহেতু এখন আমাদের সামনে তোমাদের যে ধরনের আমল প্রকাশ পাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই তোমাদের বিচার করব। কাজেই যে ব্যক্তি আমাদের সামনে ভালো প্রকাশ করবে তাকে আমরা নিরাপত্তা দান করব এবং নিকটে আনব, তার অন্তরের বিষয়ে আমাদের কিছু করণীয় নেই। আল্লাহই তার অন্তরের বিষয়ে হিসাব নিবেন। আর যে ব্যক্তি আমাদের সামনে মন্দ আমল প্রকাশ করবে, তার প্রতি আমরা নিরাপত্তা প্রদান করব না এবং সত্যবাদী বলে জানব না; যদিও সে বলে যে, তার অন্তর ভালো।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ) খুব পরিষ্কার একটি নীতি বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে ওহীর মাধ্যমে কারো গোপন অবস্থা জানা যেত। কিন্তু ওহী বন্ধ হওয়ার পর মানুষের সঙ্গে আচরণ করা হবে তার প্রকাশ্য আমল দেখে। তাই কেউ যদি প্রকাশ্যে ভালো কাজ দেখায়, তাকে নিরাপদ ধরা হবে এবং কাছে টানা হবে। তার অন্তরের খবর মানুষের দায়িত্ব নয়; আল্লাহই অন্তরের হিসাব নেবেন। আবার কেউ প্রকাশ্যে মন্দ কাজ করলে শুধু মুখে অন্তর ভালো বললেই তাকে নির্ভরযোগ্য ধরা হবে না। এই প্রকাশ্য আমল হাদিস আমাদের শেখায়, সমাজে বিচার ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কাজের গুরুত্ব আছে, তবে অন্তরের শেষ বিচার আল্লাহর হাতে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের দায়িত্ব প্রকাশ্য আমল দেখে বিচার করা; অন্তরের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর কাছে।
- ভালো আচরণ মানুষকে আস্থা ও নৈকট্যের কারণ করে।
- মন্দ কাজ প্রকাশ পেলে শুধু ভালো নিয়তের দাবি যথেষ্ট নয়।
