৫২/৩. অধ্যায়ঃ
অপ্রকাশিত ব্যক্তির সাক্ষ্যদান। ‘আমর ইবনু হুরায়স (রহঃ) এ ধরনের সাক্ষ্য বৈধ বলে মত প্রকাশ করেছেন
وَقَالَ وَكَذَلِكَ يُفْعَلُ بِالْكَاذِبِ الْفَاجِرِ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ وَابْنُ سِيرِينَ وَعَطَاءٌ وَقَتَادَةُ السَّمْعُ شَهَادَةٌ وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ لَمْ يَشْهَدُونِي عَلَى شَيْءٍ وَإِنِّي سَمِعْتُ كَذَا وَكَذَاতিনি বলেন, পাপাচারী মিথ্যুক লোকের বিরুদ্ধে এরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। ইমাম শা‘বী, ইবন সীরীন, ‘আতা ও কাতাদা (রহ.) বলেন, শুনতে পেলেই সাক্ষী হওয়া যায়। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, (এরূপ ক্ষেত্রে সে বলবে) আমাকে এরা সাক্ষী মানেনি, তবে আমি এ রকম এ রকম শুনেছি।"
বাইয়েন তালাকের পর ফিরে যাওয়ার শর্ত: রিফাআর স্ত্রীর ঘটনা
সহিহ বুখারী : ২৬৩৯
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৩৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِي فَأَبَتَّ طَلاَقِي، فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ، إِنَّمَا مَعَهُ مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ. فَقَالَ " أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ ". وَأَبُو بَكْرٍ جَالِسٌ عِنْدَهُ وَخَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِالْبَابِ يَنْتَظِرُ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ، فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلاَ تَسْمَعُ إِلَى هَذِهِ مَا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি রিফাআর স্ত্রী ছিলাম। কিন্তু সে আমাকে বাইয়েন তালাক দিয়ে দিল। পরে আমি আব্দুর রহমান ইবন যুবাইরকে বিয়ে করলাম। কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে কাপড়ের আঁচলের মতো নরম কিছু (অর্থাৎ তার পুরুষত্ব নাই)।তখন নবী (ﷺ) বললেন, তবে কি তুমি রিফাআর নিকট ফিরে যেতে চাও? না, তা হয় না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে আর সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে।আবু বকর (রাঃ) তখন তাঁর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। আর খালিদ ইবন সাঈদ ইবন আস (রাঃ) দ্বারপ্রান্তে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বললেন, হে আবু বকর! এই নারী নবী (ﷺ)-এর দরবারে উচ্চ আওয়াজে যা বলছে, তা কি আপনি শুনতে পাচ্ছেন না?
সহিহ বুখারী হাদিস ২৬৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানান যে, রিফাআ তাকে বাইয়েন তালাক দিয়েছেন। এরপর তিনি আব্দুর রহমান ইবন যুবাইরকে বিয়ে করেছেন, কিন্তু তার পুরুষত্ব নিয়ে অভিযোগ করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, সে কি রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চায়? তা হবে না, যতক্ষণ না বর্তমান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ হয়। হাদিসে খুব ব্যক্তিগত একটি বিষয় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে বলা হয়েছে, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) এর ফায়সালা দিয়েছেন। এখানে তালাক, পুনরায় বিয়ে এবং আগের স্বামীতে ফিরে যাওয়ার শর্ত সরাসরি এসেছে। বাড়তি ব্যাখ্যার বদলে মূল ফায়সালাটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাইয়েন তালাকের পর আগের স্বামীতে ফেরার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত আছে।
- ব্যক্তিগত পারিবারিক সমস্যায় শরিয়তের ফায়সালা জানতে হয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রশ্ন শুনে স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছেন।
- হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী বিষয়টি সংবেদনশীল, তাই সতর্কভাবে বোঝা দরকার।
