৫০/২. অধ্যায়ঃ
মুকাতাবের উপর যে সব শর্তারোপ করা বৈধ এবং আল্লাহর কিতাবে নেই এমন শর্তারোপ করা।
মুক্তিদাতার ওয়ালা: শর্তে নয়, কাজে অধিকার
সহীহ বুখারী : ২৫৬২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫৬২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ أَرَادَتْ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً لِتُعْتِقَهَا، فَقَالَ أَهْلُهَا عَلَى أَنَّ وَلاَءَهَا لَنَا. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَمْنَعُكِ ذَلِكِ، فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ".
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) মুক্ত করার জন্য জনৈকা বাঁদীকে খরিদ করতে চাইলেন। কিন্তু তার মালিক পক্ষ বলল, এই শর্তে (আমরা সম্মত) যে, ওয়ালা আমাদেরই থাকবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ শর্তারোপ যেন তোমাকে তা ক্রয় করতে বিরত না রাখে। কেননা, ওয়ালা তারই জন্য যে মুক্ত করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) একজন বাঁদীকে কিনে মুক্ত করতে চাইলেন। কিন্তু মালিকপক্ষ বলল, তারা বিক্রি করবে এই শর্তে যে ওয়ালা তাদের থাকবে। সাধারণভাবে এমন শর্ত শুনে কেউ পিছিয়ে যেতে পারে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আয়েশা (রাঃ)-কে বললেন, এই শর্ত যেন তাকে ক্রয় করা থেকে বিরত না রাখে। কারণ মূল বিধান পরিষ্কার—ওয়ালা তারই, যে মুক্ত করে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, মানুষের চাপানো শর্ত সবসময় অধিকার বদলে দিতে পারে না। মুক্তির কাজ কে করেছে, সেটিই এখানে মূল বিষয়। তাই হাদিসের প্রধান কীওয়ার্ড হলো ওয়ালা অধিকার এবং দাস মুক্তির বিধান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায় শর্ত দেখে ভালো কাজ থেকে সবসময় পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
- মুক্তির প্রকৃত অধিকার মুক্তিদাতার সাথে যুক্ত।
- চুক্তির শর্ত শরীয়তের বিধানের বিপরীত হলে তা মান্য নয়।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) অধিকার নির্ধারণে স্পষ্ট নীতি দিয়েছেন।
