৪৯/১৩. অধ্যায়ঃ

কোন আরব যদি কোন দাস-দাসীর মালিক হয় এবং তাকে দান করে, বিক্রয় করে, সহবাস করে এবং ফিদিয়া হিসাবে দেয় অথবা শিশুদেরকে বন্দী করে রাখে তবে এর বিধান কী?

وَقَوْلِهِ تَعَالَى ﴿ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا عَبْدًا مَمْلُوكًا لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَمَنْ رَزَقْنَاهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَجَهْرًا هَلْ يَسْتَوُونَ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ﴾আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক গোলামের, যে কোনো কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির, যাকে তিনি নিজ হতে উত্তম রিযিক দান করেছেন এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, অথচ তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (নাহল ৭৫)"

হাওয়াযিন বন্দী ফেরত: সত্য ভাষণ, পছন্দ ও সম্মতির শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫৩৯

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، ذَكَرَ عُرْوَةُ أَنَّ مَرْوَانَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَاهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ حِينَ جَاءَهُ وَفْدُ هَوَازِنَ، فَسَأَلُوهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَسَبْيَهُمْ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ مَعِي مَنْ تَرَوْنَ، وَأَحَبُّ الْحَدِيثِ إِلَىَّ أَصْدَقُهُ، فَاخْتَارُوا إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ إِمَّا الْمَالَ، وَإِمَّا السَّبْىَ، وَقَدْ كُنْتُ اسْتَأْنَيْتُ بِهِمْ ‏"‏‏.‏ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم انْتَظَرَهُمْ بِضْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً حِينَ قَفَلَ مِنَ الطَّائِفِ، فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ رَادٍّ إِلَيْهِمْ إِلاَّ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ قَالُوا فَإِنَّا نَخْتَارُ سَبْيَنَا‏.‏ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ، فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ إِخْوَانَكُمْ جَاءُونَا تَائِبِينَ، وَإِنِّي رَأَيْتُ أَنْ أَرُدَّ إِلَيْهِمْ سَبْيَهُمْ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يُطَيِّبَ ذَلِكَ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ عَلَى حَظِّهِ حَتَّى نُعْطِيَهُ إِيَّاهُ مِنْ أَوَّلِ مَا يُفِيءُ اللَّهُ عَلَيْنَا فَلْيَفْعَلْ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ النَّاسُ طَيَّبْنَا ذَلِكَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّا لاَ نَدْرِي مَنْ أَذِنَ مِنْكُمْ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ فَارْجِعُوا حَتَّى يَرْفَعَ إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أَمْرَكُمْ ‏"‏‏.‏ فَرَجَعَ النَّاسُ، فَكَلَّمَهُمْ عُرَفَاؤُهُمْ، ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرُوهُ أَنَّهُمْ طَيَّبُوا وَأَذِنُوا، فَهَذَا الَّذِي بَلَغَنَا عَنْ سَبْىِ هَوَازِنَ‏.‏ وَقَالَ أَنَسٌ قَالَ عَبَّاسٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَادَيْتُ نَفْسِي، وَفَادَيْتُ عَقِيلاً‏.‏

মারওয়ান ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (ﷺ)-এর খিদমতে হাজির হলে নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন (অভ্যর্থনার জন্য)। এরপর তারা অর্থ-সম্পদ ও বন্দীদের ফেরত দেয়ার আবেদন জানাল। তখন তিনি বললেন, তোমরা দেখেছ, আমার সাথে আরো সাহাবী আছেন। আর সত্য ভাষণই আমার নিকট প্রিয়। কাজেই, অর্থ-সম্পদ ও বন্দী এ দুটির যে কোন একটি তোমরা বেছে নাও। বন্দীদের বন্টনের ব্যাপারে আমি বিলম্বও করেছিলাম।(রাবী বলেন) নবী (ﷺ) তায়েফ হতে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলেন। যখন প্রতিনিধি দলের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, নবী (ﷺ) তাদেরকে দুটির যেকোন একটি ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, তবে আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করছি।তখন নবী (ﷺ) সবার সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা‘আলার যথাযোগ্য প্রশংসা করার পর বললেন, তোমাদের ভাইয়েরা তওবা করে আমাদের কাছে এসেছে। এমতাবস্থায় আমি তাদেরকে তাদের বন্দীদের ফেরত দিতে মনস্থ করেছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে তা পছন্দ করে, তারা যেন তাই করে। আর যারা তাদের নিজেদের অংশ পেতে পছন্দ করে তা এভাবে যে, প্রথম দফায় আল্লাহ তা‘আলা আমাকে দান করবেন, সেখান হতে আমি তাদের সে অংশ আদায় করে দিব। সে যেন তা করে।তখন সবাই বলল, আমরা আপনার জন্য সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে রাজী আছি। তিনি বললেন, আমি বুঝতে পারছি না, তোমাদের মধ্যে কারা সম্মত আর কারা সম্মত নও। কাজেই তোমরা ফিরে যাও। আর তোমাদের মুখপাত্ররা তোমাদের মতামত আমার কাছে উত্থাপন করুক।তারপর সবাই ফিরে গেল আর তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সাথে আলোচনা করে নবী (ﷺ)-কে ফিরে এসে জানালেন যে, তারা সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে সম্মতি প্রকাশ করেছে। [ইবনু শিহাব যুহরী (রহঃ) বলেন] হাওয়াযিন গোত্রের যুদ্ধ বন্দী সম্পর্কে এতটুকুই আমাদের কাছে পৌঁছেছে।আনাস (রাঃ) বলেন, আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে বললেন, (বদর যুদ্ধে) আমি (একাই) নিজের ও আকীলের মুক্তিপণ আদায় করেছি।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৩৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে তাদের সম্পদ ও বন্দীদের ফেরত চায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সত্য ভাষণই তাঁর কাছে প্রিয়, তাই তারা সম্পদ বা বন্দী—দুটির একটিকে বেছে নিক। তারা বন্দীদের বেছে নেয়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, তারা তওবা করে এসেছে এবং তিনি বন্দীদের ফেরত দিতে চান। কিন্তু তিনি সাহাবিদের সম্মতি ছাড়া তাদের অংশ ছাড়তে বাধ্য করেননি। যারা সন্তুষ্টচিত্তে ছাড়তে চায় তারা ছাড়বে, আর যারা নিজের অংশ রাখতে চায়, পরবর্তী প্রাপ্ত সম্পদ থেকে তাদের অংশ দেওয়া হবে। পরে প্রতিনিধি বা মুখপাত্রদের মাধ্যমে সম্মতি যাচাই করা হয়। এই হাদিসে নেতৃত্ব, ন্যায়, সত্যবাদিতা ও পরামর্শের সুন্দর শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم) সত্য ভাষণকে প্রিয় বলেছেন।
  • হাওয়াযিনদের সামনে সম্পদ বা বন্দী—একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
  • সাহাবিদের অংশ তাদের সম্মতি ছাড়া ছাড়ানো হয়নি।
  • সম্মতি যাচাই করতে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন