৪৯/৪. অধ্যায়ঃ
দুই ব্যক্তির মালিকানাভুক্ত ক্রীতদাস বা কয়েকজন অংশীদারের দাসী আযাদ করা।
শরীকদের প্রাপ্য আদায় করে ক্রীতদাস মুক্ত করার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৫২৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫২৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مِقْدَامٍ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهُ كَانَ يُفْتِي فِي الْعَبْدِ أَوِ الأَمَةِ يَكُونُ بَيْنَ شُرَكَاءَ، فَيُعْتِقُ أَحَدُهُمْ نَصِيبَهُ مِنْهُ، يَقُولُ قَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ عِتْقُهُ كُلِّهِ، إِذَا كَانَ لِلَّذِي أَعْتَقَ مِنَ الْمَالِ مَا يَبْلُغُ، يُقَوَّمُ مِنْ مَالِهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ، وَيُدْفَعُ إِلَى الشُّرَكَاءِ أَنْصِبَاؤُهُمْ، وَيُخَلَّى سَبِيلُ الْمُعْتَقِ. يُخْبِرُ ذَلِكَ ابْنُ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَرَوَاهُ اللَّيْثُ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ وَابْنُ إِسْحَاقَ وَجُوَيْرِيَةُ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُخْتَصَرًا.
ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি শরীকি ক্রীতদাস বা বাঁদী সম্পর্কে ফতোয়া দিতেন যে, শরীকি ক্রীতদাসদের মধ্যে কেউ নিজের অংশ মুক্ত করে দিলে তিনি বলতেন, সম্পূর্ণ ক্রীতদাসটাই আজাদ করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। যদি আজাদকারীর কাছে ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে সে অর্থ হতে ক্রীতদাসের ন্যায্যমূল্য নির্ণয় করা হবে এবং শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করা হবে, আর আজাদকৃত ক্রীতদাস পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাবে। বক্তব্যটি ইবন উমর (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। এবং লাইস, ইবন আবু যিঅব, ইবন ইসহাক, জুওয়াইরিয়া, ইয়াহিয়া ইবন সাঈদ ও ইসমাঈল ইবন উমাইয়া (রহঃ) নাফি (রহঃ)-এর মাধ্যমে ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন উমর (রাঃ)-এর ফতোয়ার কথা এসেছে। কোনো ক্রীতদাস বা বাঁদী যদি কয়েকজনের মালিকানায় থাকে এবং একজন মালিক নিজের অংশ মুক্ত করে দেয়, আর তার কাছে পূর্ণ মূল্য দেওয়ার মতো অর্থ থাকে, তাহলে তার ওপর পুরো ক্রীতদাসকে মুক্ত করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ক্রীতদাসের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হবে, শরীকদের তাদের প্রাপ্য অংশ দেওয়া হবে এবং মুক্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই বর্ণনা আমাদের দেখায়, ইসলাম দাসমুক্তিকে একটি বাস্তব ও ন্যায্য পদ্ধতির মধ্যে রেখেছে। শুধু ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; শরীকদের হক আদায় করা এবং মুক্ত ব্যক্তির পথ খুলে দেওয়া—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকি ক্রীতদাস মুক্তির ক্ষেত্রে অন্য মালিকদের অংশ দিতে হয়।
- ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্তের অংশ।
- সামর্থ্য থাকলে মুক্তিকে পূর্ণ করা দায়িত্ব হিসেবে আসে।
- মুক্ত ব্যক্তির পথ খুলে দেওয়ার কথা হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
