৪৭/১. অধ্যায়ঃ
খাদ্য, পাথেয় এবং দ্রব্য সামগ্রীতে অংশ গ্রহণ।
وَكَيْفَ قِسْمَةُ مَا يُكَالُ وَيُوزَنُ مُجَازَفَةً أَوْ قَبْضَةً قَبْضَةً لَمَّا لَمْ يَرَ الْمُسْلِمُونَ فِي النَّهْدِ بَأْسًا أَنْ يَأْكُلَ هَذَا بَعْضًا وَهَذَا بَعْضًا وَكَذَلِكَ مُجَازَفَةُ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْقِرَانُ فِي التَّمْرِমাপ ও ওজনের দ্রব্য কিরূপ বিতরণ করা হবে। অনুমানের ভিত্তিতে নাকি মুঠো মুঠো করে? যেহেতু মুসলমানেরা সফরের জিনিসপত্রে এটা কোনো দূষণীয় মনে করেন না যে, কোন্ দ্রব্য সে খাবে, (অর্থাৎ যার যেটা পছন্দ সে তা ভক্ষণ করবে এতে দোষের কিছু নেই। তেমনিভাবে স্বর্ণ রৌপ্য অনুমানের ভিত্তিতে বণ্টন ও এক সাথে জোড়া জোড়া খেজুর ভক্ষণ করা)।"
খাদ্য সংকটে ভাগাভাগি: আবু উবাইদা রাঃ-এর দলের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৪৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৮৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا قِبَلَ السَّاحِلِ، فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَهُمْ ثَلاَثُمِائَةٍ وَأَنَا فِيهِمْ، فَخَرَجْنَا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ فَنِيَ الزَّادُ، فَأَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِأَزْوَادِ ذَلِكَ الْجَيْشِ فَجُمِعَ ذَلِكَ كُلُّهُ فَكَانَ مِزْوَدَىْ تَمْرٍ، فَكَانَ يُقَوِّتُنَا كُلَّ يَوْمٍ قَلِيلاً قَلِيلاً، حَتَّى فَنِيَ فَلَمْ يَكُنْ يُصِيبُنَا إِلاَّ تَمْرَةٌ تَمْرَةٌ. فَقُلْتُ وَمَا تُغْنِي تَمْرَةٌ فَقَالَ لَقَدْ وَجَدْنَا فَقْدَهَا حِينَ فَنِيَتْ. قَالَ ثُمَّ انْتَهَيْنَا إِلَى الْبَحْرِ فَإِذَا حُوتٌ مِثْلُ الظَّرِبِ، فَأَكَلَ مِنْهُ ذَلِكَ الْجَيْشُ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً، ثُمَّ أَمَرَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِضِلَعَيْنِ مِنْ أَضْلاَعِهِ فَنُصِبَا، ثُمَّ أَمَرَ بِرَاحِلَةٍ فَرُحِلَتْ ثُمَّ مَرَّتْ تَحْتَهُمَا فَلَمْ تُصِبْهُمَا.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) সমুদ্র তীর অভিমুখে বাহিনী প্রেরণ করেন এবং আবু উবাইদা ইবন জাররাহ (রাঃ)-কে তাদের সেনাপতি নিয়োগ করলেন। এ বাহিনীতে তিনশ লোক ছিলেন। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। আমরা রওনা হলাম। কিন্তু মাঝপথেই আমাদের পাথেয় শেষ হয়ে গেল। তখন আবু উবাইদা (রাঃ) দলের সকলকে নিজ নিজ খাদ্যদ্রব্য এক জায়গায় জমা করার নির্দেশ দিলেন। তাই সমস্ত খাদ্যদ্রব্য জমা করা হল। এতে মোট দুই থলে খেজুর জমা হল। আবু উবাইদা (রাঃ) প্রতিদিন আমাদের এই খেজুর হতে কিছু কিছু করে খেতে দিলেন। অবশেষে তাও শেষ হওয়ার উপক্রম হল এবং জনপ্রতি একটা করে খেজুর ভাগে পড়তে লাগল।রাবী বলেন, আমি [জাবির (রাঃ)-কে] বললাম, একটা খেজুর কি যথেষ্ট হত?তিনি বললেন, তার মূল্য তখন বুঝতে পারলাম যখন তাও শেষ হয়ে গেল। এরপর আমরা সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। হঠাৎ ছোট পাহাড়ের ন্যায় একটা মাছ আমরা পেয়ে গেলাম এবং এ বাহিনী আঠারো দিন পর্যন্ত এই মাছ হতে খেল। তারপর আবু উবাইদা (রাঃ)-এর আদেশে সে মাছের পাঁজর হতে দুটো কাঁটা দাঁড় করানো হল। তারপর তিনি হাওদা লাগাতে বললেন। হাওদা লাগানো হল। এরপর উট তার পাঁজরের নিচ দিয়ে চলে গেল কিন্তু উটের দেহ সে দুই কাঁটা স্পর্শ করল না।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সমুদ্র তীরের দিকে পাঠানো এক বাহিনীর ঘটনা এসেছে। রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবু উবাইদা ইবন জাররাহ রাঃ-কে তাদের নেতা করেন। পথে তাদের পাথেয় শেষ হয়ে যায়। তখন আবু উবাইদা রাঃ সবার খাবার এক জায়গায় জমা করতে বলেন। এতে দুই থলে খেজুর জমা হয়। তিনি সেগুলো অল্প অল্প করে ভাগ করে দিতেন, এমনকি এক সময় প্রত্যেকে মাত্র একটি করে খেজুর পেত। জাবির রাঃ বলেন, যখন সেটিও শেষ হলো, তখন তার মূল্য বোঝা গেল। পরে তারা সমুদ্রের কাছে বড় একটি মাছ পায় এবং আঠারো দিন তা থেকে খায়। এই হাদিস খাদ্য সংকটে ধৈর্য, নেতৃত্ব, সবার খাবার একত্র করা এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিকের উপর ভরসার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সংকটে খাবার একত্র করে ন্যায়ভাবে ভাগ করা দলের জন্য সহায়ক।
- অল্প রিজিকের মূল্য তখন বেশি বোঝা যায়, যখন তা হারিয়ে যায়।
- নেতার দায়িত্ব হলো অভাবের সময় মানুষকে সামলে রাখা।
- কঠিন সময়ের পর আল্লাহ এমন রিজিক দিতে পারেন যা মানুষ ভাবেনি।
