৪২/১০. অধ্যায়ঃ
পানি পান করানোর গুরুত্ব।
বিড়ালের অধিকার: প্রাণীকে খাবার-পানি না দেওয়ার সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ২৩৬৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৩৬৫
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ حَبَسَتْهَا، حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا، فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ ـ قَالَ فَقَالَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ ـ لاَ أَنْتِ أَطْعَمْتِهَا وَلاَ سَقَيْتِهَا حِينَ حَبَسْتِيهَا، وَلاَ أَنْتِ أَرْسَلْتِيهَا فَأَكَلَتْ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ ".
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল, অবশেষে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। এ কারণে মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি [রসূল (ﷺ)] বলেন, আল্লাহ ভাল জানেন, বাঁধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তাহলে সে জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৩৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) এক মহিলার কথা বলেছেন, যাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। বর্ণনায় বলা হয়েছে, সে বিড়ালটিকে খাবার দেয়নি, পানি দেয়নি, আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে সে জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে। এখানে প্রাণীর অধিকার খুব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। কোনো প্রাণীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখলে তাকে অবহেলা করা যায় না। না খাইয়ে আটকে রাখা শুধু খারাপ আচরণ নয়, এটি জুলুমের মতো। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ঘরের পোষা প্রাণী হোক বা অন্য কোনো প্রাণী—তাদের মৌলিক প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাণীকে আটকে রাখলে তার খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা দরকার।
- যে প্রাণীকে পালন করা যায় না, তাকে কষ্ট দিয়ে আটকে রাখা উচিত নয়।
- প্রাণীর ক্ষুধা-পিপাসা উপেক্ষা করা গুরুতর পাপের কারণ হতে পারে।
- ইসলাম দুর্বল জীবের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ শেখায়।
