৪২/১০. অধ্যায়ঃ
পানি পান করানোর গুরুত্ব।
বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার হাদিস ও প্রাণীর অধিকার
সহীহ বুখারী : ২৩৬৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৩৬৪
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةَ الْكُسُوفِ، فَقَالَ " دَنَتْ مِنِّي النَّارُ حَتَّى قُلْتُ أَىْ رَبِّ، وَأَنَا مَعَهُمْ فَإِذَا امْرَأَةٌ ـ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ ـ تَخْدِشُهَا هِرَّةٌ قَالَ مَا شَأْنُ هَذِهِ قَالُوا حَبَسَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا ".
আসমা বিনতু আবূ বক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, জাহান্নাম আমার নিকটবর্তী করা হলে আমি বললাম, হে রব! আমিও কি এই জাহান্নামীদের সাথী হব?এমতাবস্থায় একজন মহিলা আমার নজরে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন, বিড়াল তাকে (মহিলা) খামচাচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলার কী হল? ফেরেশতারা জবাব দিলেন, সে একটি বিড়াল বেঁধে রেখেছিল, যার কারণে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৩৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) জাহান্নামের একটি দৃশ্যের কথা বলেন। সেখানে তিনি এক মহিলাকে দেখেন, যাকে একটি বিড়াল খামচাচ্ছিল। কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতারা বলেন, সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। এই বর্ণনা খুব সরাসরি একটি শিক্ষা দেয়—প্রাণীকে আটকে রেখে খাবার-পানি না দেওয়া বড় অন্যায়। এখানে অতিরিক্ত কোনো গল্প নেই; মূল বার্তাটি হলো, দুর্বল প্রাণীর উপর জুলুম করা আল্লাহর কাছে গুরুতর বিষয়। মানুষ নিজের অধীনে থাকা প্রাণীকে অবহেলা করলে তার দায় আছে। তাই বিড়াল, কুকুর বা অন্য প্রাণী—যে কোনো জীবের প্রতি দয়া ও দায়িত্বশীল আচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাণীকে আটকে রেখে ক্ষুধায় কষ্ট দেওয়া গুরুতর অন্যায়।
- যার অধীনে প্রাণী থাকে, তার উপর খাবার-পানির দায়িত্ব থাকে।
- দুর্বল জীবের প্রতি অবহেলাও শাস্তির কারণ হতে পারে।
- ইসলামে প্রাণীর কষ্টকে হালকা করে দেখা হয়নি।
