৪২/৬. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি মুসাফিরকে পানি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তার গুনাহ।
তিন শ্রেণীর সতর্কতা: পানি, বায়আত ও মিথ্যা কসমে ব্যবসা
সহীহ বুখারী : ২৩৫৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৩৫৮
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثَةٌ لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلاَ يُزَكِّيهِمْ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ رَجُلٌ كَانَ لَهُ فَضْلُ مَاءٍ بِالطَّرِيقِ، فَمَنَعَهُ مِنِ ابْنِ السَّبِيلِ، وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لاَ يُبَايِعُهُ إِلاَّ لِدُنْيَا، فَإِنْ أَعْطَاهُ مِنْهَا رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا سَخِطَ، وَرَجُلٌ أَقَامَ سِلْعَتَهُ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَقَالَ وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ غَيْرُهُ لَقَدْ أَعْطَيْتُ بِهَا كَذَا وَكَذَا، فَصَدَّقَهُ رَجُلٌ" ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً}
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তা’আলা দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।এক ব্যক্তি—যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে ইমামের হাতে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে বায়আত হয়। যদি ইমাম তাকে কিছু দুনিয়াবী সুযোগ দেন, তাহলে সে খুশি হয়, আর যদি না দেন তবে সে অসন্তুষ্ট হয়।অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে আসরের সালাত আদায়ের পর তার জিনিসপত্র (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে) তুলে ধরে আর বলে যে, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই, আমার এই দ্রব্যের মূল্য এত এত দিতে আগ্রহ করা হয়েছে (কিন্তু আমি বিক্রি করিনি)। এতে এক ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে (তা ক্রয় করে নেয়)।এরপর নবী (ﷺ) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: “যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে”- (আল ইমরান ৭৭)।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৩৫৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সতর্কতা। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) তিন শ্রেণীর লোকের কথা বলেছেন, যাদের ব্যাপারে কেয়ামতের দিনের কঠিন সতর্কতা এসেছে। প্রথমত, যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, কিন্তু সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। দ্বিতীয়ত, যে ইমামের হাতে শুধু দুনিয়ার স্বার্থে বায়আত হয়—কিছু পেলে খুশি, না পেলে অসন্তুষ্ট। তৃতীয়ত, যে আসরের পর পণ্য বিক্রির সময় আল্লাহর কসম করে মিথ্যা দাম বলছে, আর ক্রেতা তাকে বিশ্বাস করে। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) আল ইমরান ৭৭ আয়াত তিলাওয়াত করেন। হাদিসটি পানি, নেতৃত্বের আনুগত্য এবং ব্যবসায় সত্যবাদিতার বিষয়ে খুব স্পষ্ট সতর্কতা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও মুসাফিরকে না দেওয়া গুরুতর অন্যায়।
- দুনিয়ার স্বার্থকে কেন্দ্র করে আনুগত্য করা নিন্দনীয়।
- বিক্রির সময় মিথ্যা কসম দিয়ে মানুষকে বিশ্বাস করানো ভয়াবহ কাজ।
- শপথ ও প্রতিশ্রুতি সামান্য দুনিয়ার লাভের জন্য নষ্ট করা উচিত নয়।
