৪১/১২. অধ্যায়ঃ
ভাগচাষে যেসব শর্তারোপ করা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।
জমির অংশ ভাগ করে ইজারা: নিষেধের সহজ ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ২৩৩২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৩৩২
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى، سَمِعَ حَنْظَلَةَ الزُّرَقِيَّ، عَنْ رَافِعٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا أَكْثَرَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ حَقْلاً، وَكَانَ أَحَدُنَا يُكْرِي أَرْضَهُ، فَيَقُولُ هَذِهِ الْقِطْعَةُ لِي وَهَذِهِ لَكَ، فَرُبَّمَا أَخْرَجَتْ ذِهِ وَلَمْ تُخْرِجْ ذِهِ، فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.
রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মদিনাবাসীদের মধ্যে ফসলের জমি আমাদের বেশি ছিল। আমাদের মধ্যে কেউ তার জমি ইজারা দিত এবং বলত, জমির এ অংশ আমার আর এ অংশ তোমার। কখনো এক অংশে ফসল হত আর অন্য অংশে হত না। নবী (ﷺ) তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৩৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাফি (রাঃ) বলেন, মদিনাবাসীদের মধ্যে তাঁদের ফসলি জমি বেশি ছিল। তাঁদের কেউ জমি ইজারা দিয়ে বলত, এই অংশ আমার আর এই অংশ তোমার। কিন্তু বাস্তবে কখনো এক অংশে ফসল হত, অন্য অংশে হত না। ফলে চুক্তিটি অন্যায় ঝুঁকির দিকে চলে যেত। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের এভাবে করতে নিষেধ করেছেন। এই হাদিস জমি ইজারা ও বর্গাচাষে ন্যায্যতার শিক্ষা দেয়। চুক্তির ভাষা সুন্দর হলেও যদি ফলাফলে এক পক্ষ অকারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা ঠিক নয়। তাই জমি, ফসল ও ভাগ নিয়ে শর্ত করার সময় পরিষ্কার ও ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জমির নির্দিষ্ট অংশ ভাগ করে শর্ত করলে এক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) এমন ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি থেকে নিষেধ করেছেন।
- চাষাবাদের চুক্তিতে ন্যায্যতা ও পরিষ্কার শর্ত রাখা দরকার।
