৩৯/২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী: “যাদের সঙ্গে তোমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দিবে।” (আন-নিসা : ৩৩)
মীরাসের বিধান: ভ্রাতৃত্ব, সাহায্য ও ওসীয়ত
সহীহ বুখারী : ২২৯২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২৯২
حَدَّثَنَا الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ إِدْرِيسَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما – {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} قَالَ وَرَثَةً {وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ} قَالَ كَانَ الْمُهَاجِرُونَ لَمَّا قَدِمُوا الْمَدِينَةَ يَرِثُ الْمُهَاجِرُ الأَنْصَارِيَّ دُونَ ذَوِي رَحِمِهِ لِلأُخُوَّةِ الَّتِي آخَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمْ، فَلَمَّا نَزَلَتْ {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} نَسَخَتْ، ثُمَّ قَالَ {وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ } إِلاَّ النَّصْرَ وَالرِّفَادَةَ وَالنَّصِيحَةَ، وَقَدْ ذَهَبَ الْمِيرَاثُ وَيُوصِي لَهُ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ আয়াতে (مَوَالِيَ) মাওলিয়া শব্দের অর্থ উত্তরাধিকারী। আর ( وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ ) তাদের সম্পর্কে তিনি (ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, মদীনায় মুহাজিরদের নবী (ﷺ)-এর কাছে আগমনের পর নবী (ﷺ) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন, তার ভিত্তিতে মুহাজিররা আনসারদের উত্তরাধিকারী হত, কিন্তু আনসারদের আত্মীয়-স্বজনরা ওয়ারিশ হত না।যখন ( وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ ) "আর সকলের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছি।" এ আয়াত নাযিল হল, তখন (وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) আয়াতের হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর তিনি আরো বলেন, উপরোক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে মুহাজির ও আনসারদের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও উপদেশের হুকুম বাকী রয়েছে। কিন্তু তাদের জন্য মীরাস বা উত্তরাধিকার স্বত্ব রহিত হয়ে গেছে। অবশ্য তাদের জন্য ওসীয়ত করা যেতে পারে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস রাঃ কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, মাওয়ালি শব্দের অর্থ উত্তরাধিকারী। মদীনায় মুহাজিররা আসার পর নবী صلى الله عليه وسلم মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন। সে ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে এক সময় মুহাজিররা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতো, আত্মীয়রা নয়। পরে সকলের জন্য উত্তরাধিকারী নির্ধারণের আয়াত নাজিল হলে আগের উত্তরাধিকার হুকুম রহিত হয়। তবে সাহায্য-সহযোগিতা ও উপদেশের সম্পর্ক বাকি থাকে। মীরাস আর থাকে না, কিন্তু ওসীয়ত করা যেতে পারে। তাই এই হাদিসে মীরাস, ভ্রাতৃত্ব এবং পারস্পরিক সাহায্যের সীমা আলাদা করে বোঝানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, হৃদয়ের ভ্রাতৃত্ব থাকলেও মীরাসের নির্দিষ্ট বিধান আলাদা করে মানতে হয়। তাই সাহায্য, উপদেশ ও ওসীয়ত—এসব বিষয়কে মীরাসের অধিকার থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামী ভ্রাতৃত্ব সাহায্য ও উপদেশের সম্পর্ক তৈরি করে।
- মীরাসের হক পরে আত্মীয়-স্বজনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
- ভ্রাতৃত্বের কারণে উত্তরাধিকার পাওয়ার আগের হুকুম রহিত হয়েছে।
- মীরাস না থাকলেও ওসীয়ত করার কথা বর্ণনায় এসেছে।
